চলন্ত বাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও জীবনের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করে বাঁচিয়ে দিলেন ৩৫ জন যাত্রীর প্রাণ। এতে সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিলেন বাস চালক ইমাম হোসেন (৫৫)।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মদনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মৃত চালক ইমাম হোসেন মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের সূত্রে জানা যায়, দুপুরে গুলিস্তান থেকে গৌরীপুরের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল ‘মাদানী এয়ারকন’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস। বাসটি নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় চালক ইমাম হোসেন হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করেও তিনি নিয়ন্ত্রণ হারাননি, বরং বাসের গতি কমিয়ে বড় দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীদের রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা করেন। গাড়িটি নিয়ন্ত্রণে আসার পরই তিনি স্টিয়ারিংয়ের ওপর অচেতন হয়ে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাস যাত্রী মাসুদ রানা শিকদার বলেন, ‘আমরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ছিলাম। বাসটি চলন্ত অবস্থায় ড্রাইভার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে লুটিয়ে পড়েন। ড্রাইভার ভাই শেষ চেষ্টা করে বাসের গতি কিছুটা কমিয়েছিলেন। এরপর বাসের হেলপার দ্রুত এগিয়ে এসে চালককে কিছুটা সরিয়ে স্টিয়ারিংয়ের নিয়ন্ত্রণ নেন। হেলপার যদি ড্রাইভিং না জানতেন, তবে আজ খুব খারাপ কিছু হতে পারত।’
এদিকে, চালকের পাশাপাশি বাসের হেলপারের প্রশংসনীয় ভূমিকাও দৃষ্টি কেড়েছে সবার। তিনি দ্রুত গাড়িটি মদনপুরের সুন্দরবন পাম্পের কাছে নিরাপদে পার্ক করেন। এরপর স্থানীয়দের সহায়তায় অচেতন ড্রাইভারকে পাশের আল বারাকা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে হেলপার নিজ দায়িত্বে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে চালকের নিথর দেহটি তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বড় ভাটেরচর গ্রামে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পাম্পে পার্ক করে রাখা বাসটি অন্য একজন চালকের সাহায্যে গৌরীপুরে ফেরত পাঠানো হয় এবং যাত্রীরা নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছান।
মৃতের ভাতিজা তৌহিদ হোসেন জানান, সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
সময়ের আলো/মহু