কৃষকদের কাছে সরকারি সেবা সহজে পৌঁছে দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে জেলার সাতটি উপজেলার সাতটি ব্লকের ১১ হাজার ৬৪৮ জন কৃষক এ কার্ড পাবেন। এর মাধ্যমে কৃষি উপকরণ, ভর্তুকি ও বিভিন্ন সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কৃষক-কৃষাণিদের উপস্থিতিতে কৃষক কার্ড ও কৃষি উপকরণ সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ১ হাজার ১৪৮ জন এবং রুহিয়া উপজেলার ১ হাজার ৩৬৯ জন কৃষক রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও কার্ড বিতরণ করা হবে।
কৃষক কার্ড বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে- ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, মাঝারি ও বড় কৃষক। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ভাতাসহ বিভিন্ন সরকারি সহায়তা এবং কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। মাঝারি ও বড় কৃষকরা ভাতা ছাড়া কার্ডের অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
কার্ড হাতে পেয়ে কৃষকরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, এর মাধ্যমে সরকারি সহায়তা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভোগান্তি কমবে ও এটি সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, কার্ডধারীরা ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সহায়তায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সার সংকট মোকাবিলায়ও এটি সহায়ক হবে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি সহায়তা ও কৃষি উপকরণ আরও সুশৃঙ্খলভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল হক, পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন, সদর উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলি, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. মাজেদুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাসিরুল ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক তানভীর হাসান তানুসহ কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কৃষক-কৃষাণিরা।
সময়ের আলো/মহু