দৃশ্যাবলি
নজরুল হায়াত
চারদিকে এত চুন, এত চুন পোড়া মুখ
একদিন পেলব ছিল যেসব সুশ্রী পুতুল
আজ শরীরে তাদের শত অসুখ-বিসুখ
খসখসে জিহ্বায় টক-ঝাল পেটে পেটে বদ গ্যাস
উদরাময়ের বিচি, বিবমিষা, উথাল-পাতাল বুক জ্বালা
একদার ধবধবে চামড়ায় শ্বেতী রোগ, দগদগে ঘা
লাবণ্য মাখানো শরীরে আজ কুয়াশার বিপুল আঁধার,
চৌদিকে তাকিয়ে দেখ গাছগাছড়ায়, শাখা-প্রশাখায়
কাণ্ড ও পাতায় অগণন ল্যাদাপোকা ঝুলে আছে
ওরা খুঁড়ে খায় পাতার সরস, মোহন সুঘ্রাণ
চিরল দাঁতের ফাঁকে শিরদাঁড়া ভাঙে খানখান,
তুমি কোথায় পালাবে? অষ্টপ্রহর রাজনীতির বেদম উচ্ছ্বাস
পাড়ায় পাড়ায় ঘরের চৌকাঠে অস্ত্রের শিল্প-মহিমা
ঝনঝন শব্দের নিনাদ স্নিগ্ধ দুপুর আর রাতের ঘুম ছিঁড়ে খায়
আগুনের ঝাঁজে সেদ্ধ করে মানুষের প্রাচীন হৃদয়
নৃশংস সজ্জায় আঁকে রক্ত রঙা নবীন সময়।
আখতার হুসেন
স.ম. শামসুল আলম
ছড়াকার আখতার হুসেনের নাম
ছড়িয়েছে দেশজুড়ে, শুনে ঝরে ঘাম।
দুই হাতে লিখেছেন শিশুদের জন্য
তার লেখা পড়ে হই সকলেই ধন্য।
শুধু ছড়া নয়, জানি কবিতা ও গল্প
লিখেছেন রূপকথা উপদেশ-কল্প।
তার লেখা বই তুলে ধরি দুই-চারটি
এক নিশ্বাসে পড়ে লেগে যাবে ঘাড়টি।
‘খুব ভালো জাদুকর’ কী ‘উচিত শাস্তি’
‘বুড়িমা’র সঙ্গে বসে করে যেন মাস্তি।
‘ধূর্ত উজির’ বলে ‘দুই ভাই’ অজ্ঞ
‘জাদুর কাঠি’টি নেড়ে হবে বিশেষজ্ঞ।
‘ছোটরাও বড় হয়’ ‘ও হাওয়া ও হাওয়া’
‘এক ঘড়া ছড়া’ পড়ে হয় কত পাওয়া।
‘আকাশের হাতছানি’ কী রকম জানতে
‘আঁকা চাঁদ বাঁকা চাঁদ’ নেমে আসে, টানতে।
‘কাজে হব বড়’ বলে ছড়ালেন আলো
বলতেই হবে ‘কালো কাক কত ভালো।
‘রামধনুকের সাঁকো’— আর কত বলি
‘সারা দিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি’।
এত এত বই যদি থাকে তার ঝুলিতে
আখতার হুসেনকে পারব কি ভুলিতে!
আমার মৃত্যুতে
তানভীর রাতুল
যদি আমাকে অবশ্যই হয় মরতে
তুমি যেন বেঁচে থাকো-
আমার গল্প বলতে
বিক্রি করতে
আমার জিনিস যত
কিনতে একটা কাপড়
আর কিছু সুতো
যেন যুদ্ধের মাঠে কোনো শিশু
স্বর্গের দিকে তাকানো চোখে
পিতার অপেক্ষায় ঝাপসা আগুনে
বিদায়ের কথা না জেনে
আমার যে ঘুড়িটা বানিয়েছ সেটা দেখে
কিছু সময়ের জন্য এটাকে ভাবে
ভালোবাসার দেবদূত
আমি যদি অবশ্যই মরি
তা হলে আশা করি
সেটা হবে এক গল্প অদ্ভুত।
অস্তিত্ব
মানসিবা ফাইরুজ রুসাফা
অন্ধকারে আমি আরও গাঢ় হই,
ঘন কালো কালি হয়ে মিশে যাই দিগন্তের ফাটলে,
তোমার নিশ্বাসের ছায়ায় দুলে ওঠে আমার শরীর;
একটি বিস্মৃত নক্ষত্রের মতো।
আলোতে হই বিবর্ণ,
রং চুইয়ে পড়ে সময়ের সাদা ক্যানভাসে,
চোখের পাতায় জমে থাকা স্বপ্নেরা;
ধুলো হয়ে উড়ে যায় দিগন্তের দিকে।
আমি কুয়াশার ভেতর শব্দের প্রতিচ্ছবি,
আমি সন্ধ্যার শেষ আলোর ভ্রান্ত বিভ্রম,
তুমি যখন আমাকে দেখবে,
আমি তখনও রূপ বদলাব;
অস্তিত্বের নিঃশব্দ খেলার এক অনিশ্চিত কাব্যে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা