যারা ক্ষমতা ও ব্যক্তিস্বার্থের জন্য একাত্তরের চেতনাবিরোধী এবং স্বাধীনতার শত্রুদের সাথে হাত মেলায়, তারা দেশ ও জাতির বন্ধু হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে এবং সরকারকে বিব্রত করার উদ্দেশ্যে যারা চক্রান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে সজাগ থাকতে হবে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বেংহাড়ী বনগ্রাম ইউনিয়নের বোয়ালমারী বারুনী এলাকায় করতোয়া নদীর ২৩০ মিটার দীর্ঘ তীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ১৯৭১ সালে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি, আজ তারা দেশের উন্নয়ন রুখে দিতে এবং সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে পর্দার আড়ালে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মনে রাখতে হবে, এই ষড়যন্ত্র কেবল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, বরং দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে।
বিএনপির ঐতিহাসিক সাফল্য ও আদর্শিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান সফল করতে বিএনপি রাজপথে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে। দেশের ২০ কোটি মানুষের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বিএনপি কখনো কোনো অপশক্তির সাথে আপস করেনি।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যান্য দলগুলোর সাথে বিএনপির সম্পর্কের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আদর্শিক দিক থেকে ওই দলগুলোর সাথে বিএনপির স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। বিএনপি সবসময় দেশপ্রেম, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যদিও দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে, তবুও দেশের স্বার্থে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সকল ধর্ম-বর্ণের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আপনারা যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবেন, যাতে একটি সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী বোয়ালমারী বারুনী এলাকায় করতোয়া নদীর ভাঙন রোধে চলমান প্রতিরক্ষা কাজের নামফলক উন্মোচন করেন। উদ্বোধনশেষে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানে পঞ্চগড় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি, পুলিশ সদস্য এবং জেলা ও উপজেলা বিএনপির অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ স্থানীয় জনসাধারণ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/এনএন