এই সপ্তাহের কবিতা

সাহিত্য

ব্যাঙ ছানার লেজফারুক আহম্মেদ জীবনব্যাঙের ছানা তা-না নানা,তা-ধিনা ধিন ধিন,মনের খুশি গান ধরেছে,নাচছে শুনে বিন।কী খুশি আজ ব্যাঙের মনে,গজিয়েছে তার

2026-10-03T04:29:40+00:00
2026-10-03T04:30:04+00:00
 
  শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬,
১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
সাহিত্য
এই সপ্তাহের কবিতা
প্রকাশ: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৯ এএম  আপডেট: ০৩.১০.২০২৬ ৪:৩০ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
ব্যাঙ ছানার লেজ
ফারুক আহম্মেদ জীবন

ব্যাঙের ছানা তা-না নানা,
তা-ধিনা ধিন ধিন,
মনের খুশি গান ধরেছে,
নাচছে শুনে বিন।

কী খুশি আজ ব্যাঙের মনে,
গজিয়েছে তার লেজ,
ঠ্যাং তুলে তাই ব্যাঙ ছানাটি
লাফায় দেখায় তেজ।

লাফ মেরে সে জলের মাঝে
ধরছে পোকা-মাছ,
হঠাৎ আবার উঠছে ভেসে,
কী যে মজার নাচ!

মাছের মতো পাখনা গজায়,
লম্বা হয়েছে ঠ্যাং,
তিড়িংবিড়িং নাচ ধরে তাই,
মারছে কত ল্যাং!



ঝুঁটি শালিক
শাহজালাল সুজন

উঠানঘেঁষা ডালিম গাছে
হাসে ফুলে ফুলে,
বিহানবেলা রোদের সাথে
কলসি হয়ে ঝুলে।

ফুল ছড়ানো পাপড়ি মেলে
গাছের নিচে পড়ে,
অবুঝ খুকি দৌড়ে গিয়ে
জামার টোনা ভরে।

ঝুঁটি শালিক পাতার ফাঁকে
মিষ্টি সুরে ডাকে,
ফুল দিয়ে যাও, ওগো খুকি,
ঘর বাঁধব যে শাঁখে।

খুকির সাথে খোশগল্প হয়
সকাল-দুপুর-রাতে,
ঝুঁটি শালিক ফুল পেতে তাই
বসে খুকির হাতে।



কচুপাতা
এম আলী হুসাইন

সে এক স্বপ্নের রাজ্যে
বাস করে এতিম শিশু,
লেখাপড়া করতে চায়,
ছুটে জ্ঞানীদের পিছু।

বাবাহীন এই শিশুটির
ছিল অভিভাবক চাচাজান,
লেখাপড়ার খরচ না দিয়ে
বলে, ‘বাবা, বাঁচাও প্রাণ।’

তবু সে থামে না, চলে
প্রচুর জেদ আর ইচ্ছা নিয়ে,
সব ত্যাগ করে চলে গেল
অন্য কোথাও এগিয়ে।

সে লেখাপড়া করে অনেক,
বড় হলো, চারদিকে সুনাম,
বাড়িতে উপস্থিত হলো সাথে
নিয়ে মিষ্টি, কাঁঠাল, আম-জাম।

দেখে সবাই অনেক খুশি,
খুশি তার দুঃখী মায়ের মুখ,
এতেই তার আনন্দ, এতেই
তার যেন অর্জিত সুখ।

স্বপ্নের বাংলাদেশ তাই,
চাকরিতে লাগে মামা-টাকা,
সার্টিফিকেট সাথে নিয়ে
দৌড়ায় তার পায়ের চাকা।

চাকরির জন্য পরীক্ষা দেয়,
সব হয়ে যায় ঠিকঠাক,
টাকার জন্য আটকে যায়
চাকরির সব নতুন ডাক।

ঘুরে ঘুরে পায় না চাকরি,
ক্ষোভে ফাটে তার হৃদয়,
মামা-চাচা ও টাকাবিহীন
অর্জিত সার্টিফিকেট কচুপাতা হয়।



খোকন দুলে মায়ের কোলে
কাজল নিশি

কোলে নিয়ে খাওয়াতে গেলে
ভাত-মাখানো ডাল,
দুহাত দিয়ে ধরে খোকন
মায়ের নরম গাল।

দিনে জ্বালে সূর্য আলো,
রাতে জ্বালে চাঁদ,
মায়ের হাতের খাবার খেতে
খোকার লাগে স্বাদ।

আধো-আধো বোলে কথা
বলে খোকার প্রাণ,
কথা কি আর ফোটে খোকার?
বেরোয় গাঁইগুঁই গান!

মায়ের আদর, মায়ের সোহাগ
খোকার মনের সুখ,
মায়ের কোলে ঘুমিয়ে খোকা
মুছে অবুঝ দুঃখ।




আমরা থাকি গাঁয়ে
নাজীর হুসাইন খান

তোমরা থাকো এই শহরে,
আমরা থাকি গাঁয়ে,
তোমরা চলো গাড়ি নিয়ে,
আমরা হাঁটি পায়ে।

মেঠোপথের শুকনো ধুলো
পায়ে মাখি রোজ,
ছেলেমেয়ে সবাই মিলে
চড়ুইভাতির ভোজ।

জোছনা রাতে উঠানজুড়ে
আড্ডা জমে বেশ,
আমার গাঁয়ের ফসল দেখে
যাই ভুলে সব ক্লেশ।

আমার গাঁয়ে জন্মে কত
শস্য-পাট আর ধান,
মন কেড়ে নেয় ফুল-পাখি আর
নদীর কলতান।

শহর থেকে শতগুণে
সুখ আছে এই গাঁয়,
সেই সুখ পেতে আমার গাঁয়ে
জলদি ছুটে আয়।



শরৎ এলো বলে
আশরাফ মাহতাব

মেঘবালিকার কালো চুল
হয়ে গেল সাদা,
হঠাৎ মেঘ কি হলো বুড়ি?
চোখে লাগে ধাঁধা।

দু-মাসেই মেঘবালিকা
হয়েই গেল বুড়ি?
বর্ষায় ঝরত ঝমঝমিয়ে,
এখন গুঁড়িগুঁড়ি।

বর্ষায় মেঘ করত গর্জন,
কালো চুল উড়িয়ে,
মেঘবালিকার অহমিকা
দিল কে যে গুঁড়িয়ে!

মেঘবালিকার মনটা ভার,
শরৎ এলো বলে,
কালো মেঘ পুঁটলি ভরে
গেল সে যে চলে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/কেএইচও
  বিষয়:   এই সপ্তাহ  কবিতা 


Advertisement
Loading...
Loading...
সাহিত্য- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: