গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বালাসী ঘাট থেকে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত যমুনা নদীর ওপর স্থায়ী বহুমুখী সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ‘গাইবান্ধা তথা উত্তরবঙ্গবাসী’ ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ এবং সেতু বা টানেল নির্মাণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে সেতু নির্মাণ উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। যমুনা নদী পারাপারে ভোগান্তি নিয়ে বছরের পর বছর ধরে এ অঞ্চলের মানুষ সেতুর অপেক্ষায় রয়েছেন।
বক্তারা জানান, একসময় এ রুটে রেল ফেরি চলাচল করলেও প্রায় ২২ বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। পরে নৌরুটটি পুনরায় চালুর লক্ষ্যে প্রায় ১৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাট ও আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। তবে নদীর নাব্য সংকট ও খননসংক্রান্ত সমস্যার কারণে সাধারণ মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
তাঁদের মতে, বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও অবকাঠামোটি কার্যকরভাবে কাজে না লাগায় নৌপথনির্ভর সমাধানের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট হয়েছে। তাই বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে স্থায়ী সেতুকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান হিসেবে দেখছেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের দাবি, এ রুটে সেতু নির্মাণ করা হলে কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধাসহ উত্তরবঙ্গের অন্তত আটটি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ সহজ হবে। তাঁদের হিসাবে, এতে যাতায়াতের দূরত্ব প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার কমতে পারে। এর সুফল উত্তরবঙ্গের প্রায় আড়াই কোটি মানুষ পাবেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
বক্তারা বলেন, দূরত্ব কমলে সময় ও জ্বালানি খরচ সাশ্রয়ের পাশাপাশি কৃষিপণ্য দ্রুত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে পরিবহন করা সম্ভব হবে। এতে উত্তরবঙ্গের ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
মানববন্ধন থেকে বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুটে সেতু বা টানেল নির্মাণের লক্ষ্যে দ্রুত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে উত্তরবঙ্গের সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন