নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ১৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো.আরিফ হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে শনিবার রাতে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ অভিযান চালানো হয়।
আটকদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, ১০ জনকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে এবং ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বাকি ১৫২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
থানাভিত্তিক অভিযানের মধ্যে হাতিয়া থানায় সর্বোচ্চ ৪৯ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে, ছয়জনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দেওয়া হয়েছে। বাকি ৪১ জনকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বেগমগঞ্জ মডেল থানায় আটক ৩২ জনের মধ্যে চারজনকে ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দিয়ে বাকি ২৮ জনকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এছাড়া সোনাইমুড়ী থানায় আটক ১৮ জনের মধ্যে ছয়জনকে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে এবং ১২ জনকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৭ জন, কবিরহাট থানায় ৯ জন, চাটখিল থানায় ৬ জন, সুধারাম মডেল থানায় ৪ জন, সেনবাগ থানায় ৩ জন এবং চরজব্বর থানায় ৩২ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরো বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা ও অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি কিশোরদের সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে জনসচেতনতামূলক ও সামাজিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সময়ের আলো/এনএন