গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবসায়ীর পথরোধ করে সাড়ে ৫ লাখ টাকাসহ ব্যাগ ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। শনিবার (৪ অক্টোবর) রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তির নাম মো. শামীম মিয়া (৩৫)। তিনি উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের রুদ্রনগর গ্রামের ভোলা মিয়ার ছেলে।
অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মো. আইয়ুব হোসেন (৩৪) গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বুজরুক বোয়ালিয়া (আদর্শ থানাপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তিনি গোবিন্দগঞ্জ চারমাথা এলাকায় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের পাশে বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট ব্যবসা পরিচালনা করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত ১২টা ১০ মিনিটের দিকে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন আইয়ুব হোসেন। বুজরুক বোয়ালিয়া মৌজার জে.পি. পেট্রলপাম্পের প্রায় ২০০ গজ দক্ষিণে নির্জন এলাকায় পৌঁছালে একটি নোহা মাইক্রোবাস তাঁর পথরোধ করে।
এসময় মাইক্রোবাস থেকে কয়েকজন ব্যক্তি নেমে আইয়ুব হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে ধারালো দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাঁর হাতে থাকা কালো রঙের একটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
আইয়ুব হোসেনের দাবি, ওই ব্যাগে ব্যবসার নগদ সাড়ে ৫ লাখ টাকা, আনুমানিক ১৪ হাজার টাকা মূল্যের দুটি মোবাইল ফোন, দোকানের চাবি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল।
হামলার সময় ব্যবসায়ীর চিৎকার শুনে পাশের পেট্রলপাম্পের কর্মচারী ও স্থানীয় পথচারী হেলাল মণ্ডলসহ কয়েকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে ছিনতাইকারীদের কয়েকজন মাইক্রোবাস নিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় শামীম মিয়াকে ঘটনাস্থলে ফেলে গেলে আইয়ুব হোসেন ও স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে আটক করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আইয়ুব হোসেন বাদী হয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দিয়েছেন। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক শামীম মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/এনএন