রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা কাটবে কবে?

মো. নূর হামজা পিয়াস

মতামত

রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র এবং স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। কিন্তু দুঃখজনক

2026-10-05T06:20:41+00:00
2026-10-05T06:20:41+00:00
 
  সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬,
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
মতামত
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তা কাটবে কবে?
মো. নূর হামজা পিয়াস
প্রকাশ: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২০ এএম 
গ্রাফিক : সময়ের আলো
রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র এবং স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ এখনও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বিন্দুমাত্র অনুকূল নয়। জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে রাখাইন রাজ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের জীবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান বিশ্বে মানবতা ও সংহতির ধারণাটি আজ এক মারাত্মক পরীক্ষার মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি এবং পরাশক্তিগুলোর দ্বন্দ্বের জেরে যখন একের পর এক যুদ্ধ ও সংঘাতের সৃষ্টি হচ্ছে, তখন তার সবচেয়ে বড় মূল্য চুকাতে হচ্ছে সাধারণ ও অসহায় মানুষকে। বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। অথচ উন্নত দেশগুলোর উদাসীনতা এবং দাতা দেশগুলোর পক্ষ থেকে অনুদান ও তহবিল কমানোর প্রবণতা এই বৈশ্বিক মানবিক সংকটকে আরও বেশি ঘনীভূত ও শোচনীয় করে তুলছে।

সংঘাত ও সহিংসতার শিকার হয়ে নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর মৌলিক অধিকার আজ চরম হুমকির মুখে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শরণার্থী শিবিরগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করা এসব মানুষের দুবেলা দুমুঠো খাবার এবং চিকিৎসাসেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে যেটুকু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হতো, তহবিলের তীব্র সংকটের কারণে তাও এখন সংকুচিত হয়ে আসছে। ফলে বিশ্বজুড়ে এক নীরব মানবিক বিপর্যয় ধেয়ে আসছে, যা রোধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবিলম্বে এক হওয়া প্রয়োজন।

জাতিসংঘের শরণার্থী-বিষয়ক হাইকমিশন বা ইউএনএইচসিআরের পক্ষ থেকে সম্প্রতি একটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, মারাত্মক তহবিল হ্রাসের কারণে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৩ লাখ শরণার্থী এবং অন্যান্য জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ তাদের জীবনের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সহায়তা হারানোর চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তহবিলের এই ভয়াবহ খরা কেবল ত্রাণ বিতরণকেই ব্যাহত করছে না, বরং কোটি কোটি মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও কেড়ে নিচ্ছে, যা মানবজাতির জন্য একটি বড় লজ্জার বিষয়।

আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর অনুদান নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ার কারণে মাঠপর্যায়ে শরণার্থীদের জন্য পরিচালিত প্রজেক্টগুলো একে একে বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। খাদ্য সহায়তা, বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং শীতের কাপড়ের মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলো মেটানোও আজ অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ইউএনএইচসিআর বারবার বিশ্বনেতাদের কাছে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আকুতি জানালেও কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। সহায়তার এই ভাঁড়ার শূন্য হয়ে যাওয়ার কারণে লাখ লাখ শরণার্থীর ভবিষ্যৎ আজ সম্পূর্ণ অন্ধকারাচ্ছন্ন ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের কথা প্রতিদিন বড় বড় বক্তৃতায় উচ্চারিত হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। শরণার্থীদের অধিকার সুরক্ষার গালভরা বুলি কেবল কাগজের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে, বাস্তবে তার কোনো কার্যকর রূপায়ণ দেখা যায় না। তহবিলের অভাবে যখন ক্ষুধার জ্বালায় লাখ লাখ মানুষ কাতরায়, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে বিশ্বব্যবস্থায় নীতিমালার চেয়ে ক্ষমতা ও স্বার্থের রাজনীতিই বেশি শক্তিশালী। ন্যায়বিচারের এই প্রহসন বিশ্ববাসীর বিবেককে প্রতিনিয়ত দংশন করছে।

ইউএনএইচসিআরের এই তহবিল হ্রাসের সতর্কবার্তাটি বাংলাদেশ এবং আমাদের দেশের অভ্যন্তরে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ও উদ্বেগের। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম জনবহুল রাষ্ট্র হয়েও বাংলাদেশ অত্যন্ত উদারভাবে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ক্রমাগত হ্রাস পেতে থাকায় এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভরণপোষণ করা বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনীতির জন্য এক চরম ও অসহনীয় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উখিয়া ও টেকনাফের পাহাড়ঘেরা জনপদে গাদাগাদি করে বসবাস করা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত শোচনীয়। যতদিন গড়াচ্ছে, ততই তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তাদের মৌলিক চাহিদা মেটানোর খরচ বহুগুণ বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ সরকার নিজ সাধ্যমতো চেষ্টা চালিয়ে গেলেও এককভাবে এই বিশাল জনসংখ্যার দীর্ঘমেয়াদি চাপ সামলানো কোনো দেশের পক্ষেই সম্ভব নয়। 


আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাহায্য কমে যাওয়ায় ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য ও নিরাপত্তা সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র এবং স্থায়ী সমাধান হলো তাদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমান মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ এখনও তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য বিন্দুমাত্র অনুকূল নয়। জান্তা সরকার এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যকার চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে রাখাইন রাজ্য এখন এক অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গাদের জীবন চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলোর যে ধরনের জোরালো কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা প্রয়োজন ছিল, বাস্তব ক্ষেত্রে তার চরম অভাব দেখা যাচ্ছে। মিয়ানমার সরকারের ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে বিশ্বনেতারা প্রায়ই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। 

কূটনৈতিক এই স্থবিরতার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ টালবাহানা করে চলেছে, যার ফলে বছরের পর বছর ধরে এই সংকট ঝুলে থাকছে এবং কোনো স্থায়ী সমাধানের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

কক্সবাজার ও টেকনাফের স্থানীয় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। স্থানীয় পরিবেশ, বনভূমি ধ্বংস, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে স্থানীয় জনগোষ্ঠী প্রতিনিয়ত কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়া এবং জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় গরিব মানুষগুলোও মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক অসন্তোষ তৈরি করছে।

দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যে বসবাস করার কারণে রোহিঙ্গা শিবিরের একাংশের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের অবৈধ চোরাচালান, মানব পাচার এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাং ওয়্যার বা সংঘর্ষের কারণে পুরো অঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রায়শই চরম অবনতির মুখে পড়ে। জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে এই সীমান্ত অপরাধগুলো কঠোরহস্তে দমন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।

বিশ্বজুড়ে তহবিল হ্রাসের প্রত্যক্ষ আঘাত এসে পড়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের খাদ্য কর্মসূচির ওপর। আন্তর্জাতিক খাদ্য কর্মসূচি এর আগে রোহিঙ্গাদের জন্য যে রেশন বা খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ করত, তা গত কিছু দিন ধরে দফায় দফায় কমানো হয়েছে। মাথাপিছু খাদ্যের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অপুষ্টির শিকার হচ্ছে হাজার হাজার শিশু ও নারী। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ক্যাম্পে চরম সামাজিক অস্থিরতা ও অপরাধের মাত্রা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কক্সবাজার ক্যাম্পের ওপর অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ কমাতে বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব অর্থায়নে নোয়াখালীর ভাসানচরে অত্যন্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত আবাসন তৈরি করেছে। সেখানে ইতিমধ্যে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে স্বেচ্ছায় স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার চেষ্টা চলছে। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভাসানচরের কার্যক্রমে যে ধরনের পূর্ণাঙ্গ আর্থিক ও লজিস্টিকস সহায়তা পাওয়ার কথা ছিল, তা এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ক্যাম্পের অভ্যন্তরে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের রোহিঙ্গা শিশুরা আধুনিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। মিয়ানমারের পাঠ্যক্রম বা বিকল্প সীমিত শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট ভবিষ্যৎ নেই। কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় এই বিশাল তরুণ সমাজ বিপথগামী হয়ে পড়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। একটি পুরো প্রজন্ম যদি শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকে, তবে তারা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

মানবাধিকারের বড় বড় কথা বলা পশ্চিমা দেশগুলো ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শরণার্থীদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার দায়িত্ব কেবল বাংলাদেশের ওপর চাপিয়ে দিয়ে নিজেরা দায়মুক্ত থাকতে চায়। তহবিল দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের এই কার্পণ্য এবং কথার সঙ্গে কাজের অমিল আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এক নিষ্ঠুর রূপকে উন্মোচন করে। সংকট তৈরি হয়েছে বিশ্ব রাজনীতির কারণে, অথচ তার ভার বইতে হচ্ছে কেবল একটি উন্নয়নশীল দেশকে, যা কোনোভাবেই সমতাভিত্তিক বা ন্যায়সংগত হতে পারে না।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতিসংঘকে এবার দৃশ্যমান এবং কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। কেবল নামমাত্র বৈঠক বা বিবৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকারের ওপর সর্বাত্মক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে হবে যাতে তারা রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দিয়ে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি যতদিন তারা বাংলাদেশে অবস্থান করছে, ততদিন তাদের পূর্ণ সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক দাতা দেশগুলোকে নিয়মিত তহবিল সরবরাহ বজায় রাখতে হবে।

লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ
মতামত লেখকের নিজস্ব

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   রোহিঙ্গা  প্রত্যাবাসন  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
মতামত- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: