বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পর ২০ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে একটি শ্রমিক পরিবার। গত ১৫ সেপ্টেম্বর বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লেগে নুরুল ইসলাম খলিফার বসতঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, টেলিভিশন, ফ্রিজ, দলিলপত্র, সার্টিফিকেট, ভোটার পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির দাবি, এতে প্রায় ৯ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সরেজমিনে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের বাইনতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, বসতঘর হারিয়ে পরিবারটি চরম দুর্ভোগে রয়েছে। দিনের বেলা প্রতিবেশীদের বাড়িতে এবং রাতে কোনোমতে একটি ছোট রান্নাঘরে অবস্থান করছেন পরিবারের সদস্যরা।
ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল ইসলাম খলিফা জানান, গত ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর বাড়িতে আগুন লাগে। ঘটনার সময় পরিবারের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। তিন দিন আগে তাঁর নাতি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মোংলা উপজেলা সদর হাসপাতালে ছিলেন। ঘটনার দিন সকালে শুধু তিনি বাড়িতে আসেন।
নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরে পাশের বাড়িতে খাবার খেয়ে বাড়ির সামনের একটি দোকানের কাছে অবস্থান করছিলেন তিনি। হঠাৎ বাড়ির দিক থেকে ধোঁয়া দেখতে পেয়ে ছুটে গিয়ে দেখেন, বসতঘরে আগুন জ্বলছে। স্থানীয়রা পানি দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
তিনি বলেন, আগুন নেভাতে মোরেলগঞ্জ ও মোংলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে এলেও রাস্তা না থাকায় গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।
নুরুল ইসলামের স্ত্রী শাহিনুর বেগম ও ছোট ছেলে পারভেজ খলিফা বলেন, বাড়িতে আগুন লাগার খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে পুরোপুরি সুস্থ না হয়েই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন তাঁরা। ঢাকায় একটি চাকরি করতেন পারভেজ। সেখান থেকে পাওয়া কিছু টাকা ঘরে রাখা ছিল, আগুনে সেগুলোও পুড়ে গেছে।
তাঁরা বলেন, এখন পরিবারের খাবার জোটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য নেই। দিনের বেলা প্রতিবেশীদের বাড়িতে সময় কাটলেও রাতে থাকতে হচ্ছে ছোট একটি রান্নাঘরে। ছেলে-মেয়েদের নিয়ে কীভাবে দিন কাটাবেন, কোথায় থাকবেন—তা নিয়েও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি সরকারি সহায়তার জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে।
প্রতিবেশী গোপাল মণ্ডল, তোতা মিয়া হাওলাদার, বিএনপি নেতা জাহিদুল ইসলাম খান, পলি আক্তারসহ স্থানীয়রা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে নুরুল ইসলাম খলিফার পরিবারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বসতঘর পুনর্নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে বসবাস করার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের কাছে মানবিক সহায়তার দাবি জানান তাঁরা।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবুল্লাহ বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আবেদনের বিষয়ে তিনি অবহিত নন। তবে খোঁজখবর নিয়ে পরিবারটির জন্য যতটুকু সহায়তা করা সম্ভব, তা করার চেষ্টা থাকবে।
সময়ের আলো/এনএন