প্রতিটি ক্লাসরুমের পলেস্তারা খসে পড়ছে । ইট, রড দৃশ্যমান। রুম সঙ্কটের কারণে একই কক্ষে পর্দা দিয়ে দুটি ক্লাসের পাঠদান করানো হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিস কক্ষটিও ঝুঁকিপূর্ণ। সম্প্রতি ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। এমন চিত্র বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা ইউনিয়নের ২২৯নং কালিবাড়ী বহরবুনিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই চলছে পাঠদান। ভবনটি যেকোনো মূহুর্তে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে নতুন ভবন নির্মানের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয়রা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিদ্যালয়টি। ১৯৯৭ সালে চার কক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মিত হয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৩ জন। বিদ্যালয়ের এ ভবনটি বিগত ৩ বছর ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জন্য ছয়জন শিক্ষকের মাধ্যমে ২ শিফটে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে হচ্ছে।
শিক্ষার্থী অনন্যা হাওলাদার, জুনায়েদ খন্দকার, অয়শ্রী মজুমদার কোয়েলসহ একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কবে হবে আমাদের বিদ্যালয়ে নতুন ভবন? ক্লাস চলাকালীন সময়ে আমাদের ভয়ে ভয়ে ক্লাশ করতে হয় । কখন জানি ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে গায়ে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে। আমরা বিদ্যালয়ে নতুন ভবন চাই।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুপ্তি রানী, সংগীতা রানী ও প্রশান্ত কুমার বলেন, অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে অপরাগতা প্রকাশ করছেন। অভিভাবকদের বুঝিয়ে ছেলে মেয়েদের স্কুলে আনতে হচ্ছে। বিদ্যাললেয় লেখাপড়ার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে নতুন ভবনের বিকল্প নেই।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিপন কুমার বলেন, স্কুলের এ জরাজীর্ণ ভবনের বিষয়ে ২০২৪ সাল থেকে নতুন ভবনের চাহিদা উপজেলা শিক্ষা অফিসসহ শিক্ষা কমিটির নিকট একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি। নতুন একটি ভবন নির্মাণ হলে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ক্লাসে আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সাথে অভিভাবকদের মনে এ আতঙ্ক থাকবে না।
সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার শারমিন খাতুন বলেন, ২২৯ নং কালিবাড়ী বহরবুনিয়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। নতুন ভবনের চাহিদা চেয়ে ইতোমধ্যে ২ বার তালিকায় বিদ্যালয়টির নাম পাঠানো হয়েছে। তবে পাঠদানে বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ওই ভবনেই ক্লাস করানো হচ্ছে। যে কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত হিসাবে ঘোষণা করা হয়নি।
সময়ের আলো/এনএন