ফেসবুকে নিজের ভ্রমণ করা জেলার হিসাব দেখাতে অনলাইন ট্রাভেল ম্যাপ তৈরির ট্রেন্ড চলছে। ৬৪ জেলার মধ্যে কতটি ঘোরা হয়েছে, কোনগুলো এখনো বাকি, এমন তথ্য কয়েক ক্লিকেই ম্যাপে তুলে ধরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন অনেকে। তবে এই জনপ্রিয়তার আড়ালে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নও উঠছে।
ভ্রমণ ম্যাপ তৈরির বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীকে ঘোরা জেলা নির্বাচন, নাম, ছবি এবং কখনো কখনো অন্যান্য তথ্য যুক্ত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তৈরি করা ম্যাপ পরে ছবি বা পিডিএফ হিসেবে ডাউনলোড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। ব্যবহারকারীর জন্য বিষয়টি মজার হলেও প্রকাশ্যে নিজের ভ্রমণের তথ্য তুলে ধরার কিছু ঝুঁকি রয়েছে।
কোন ব্যক্তি কোন কোন জেলায় নিয়মিত ভ্রমণ করেন, কোথায় বেড়াতে গেছেন বা কোন অঞ্চল এখনো তার তালিকায় রয়েছে, এসব তথ্য একসঙ্গে প্রকাশ হলে তার ব্যক্তিগত চলাচল সম্পর্কে একটি ধারণা তৈরি হতে পারে। নাম ও ব্যক্তিগত ছবি যুক্ত করলে তথ্যগুলো আরও সহজে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা সম্ভব।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ম্যাপ প্রকাশের সময় ব্যবহারকারীর প্রোফাইলের অন্যান্য তথ্যও যদি প্রকাশ্যে থাকে, তাহলে একজন অপরিচিত ব্যক্তি তার পরিচয়, সম্ভাব্য ভ্রমণপথ, আগ্রহ এবং অবস্থান সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন। এসব তথ্য পরবর্তী সময়ে সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক প্রতারণা, পরিচয় চুরি, ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি বা লক্ষ্যভিত্তিক ফিশিংয়ের মতো অপরাধে কাজে লাগতে পারে।
আরও বড় প্রশ্ন হলো, এসব ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীর তথ্য কোথায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং তা কতদিন রাখা হচ্ছে। তথ্য তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে শেয়ার করা হয় কি না, ছবি বা নাম কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা শক্তিশালী এবং ব্যবহারকারী চাইলে নিজের তথ্য পুরোপুরি মুছে ফেলতে পারবেন কি না, এসব বিষয় জানা জরুরি।
তাই ট্রাভেল ম্যাপ তৈরি করার আগে ওয়েবসাইটের গোপনীয়তা নীতি ও তথ্য ব্যবহারের শর্ত পড়ে দেখা উচিত। অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য না দেওয়াই নিরাপদ। বাড়ির ঠিকানা, ফোন নম্বর, ই-মেইল, নির্দিষ্ট ভ্রমণের তারিখ বা ভবিষ্যৎ ভ্রমণ পরিকল্পনার মতো সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ না করাই ভালো।
ভ্রমণের স্মৃতি ধরে রাখা বা বন্ধুদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। তবে কয়েকটি ক্লিকের বিনিময়ে নিজের সম্পর্কে কতটা তথ্য প্রকাশ করছি, সেই হিসাবটিও রাখা জরুরি। কারণ অনলাইনে শেয়ার করা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ একবার হারিয়ে গেলে তা কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটি সবসময় জানা সম্ভব হয় না।
সময়ের আলো/এমকে