ঝুঁকি জেনেও রেললাইনে বাড়ছে ভ্রমণপ্রেমীদের ভিড়

মেহেরাব হোসেন, শিবচর

সারাদেশ

বিকেল নামলেই শিবচরের রেললাইন ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ হাঁটছেন, কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছবি

2026-10-06T15:46:17+00:00
2026-10-06T15:46:17+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬,
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ঝুঁকি জেনেও রেললাইনে বাড়ছে ভ্রমণপ্রেমীদের ভিড়
মেহেরাব হোসেন, শিবচর
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৪৬ পিএম 
বিকেল হলেই রেললাইনের পাশে মানুষের ভিড় বাড়ে। ছবি : সময়ের আলো
বিকেল নামলেই শিবচরের রেললাইন ঘিরে বাড়তে থাকে মানুষের আনাগোনা। কেউ হাঁটছেন, কেউ বসে আড্ডা দিচ্ছেন, আবার কেউ রেললাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়েও অনেকে আসছেন স্টেশন এলাকায়। নতুন রেলপথকে ঘিরে মানুষের এই কৌতূহল তৈরি করেছে বিনোদনের নতুন একটি জায়গা। তবে আনন্দের এই ভ্রমণ অনেক সময় পরিণত হচ্ছে মৃত্যুফাঁদে।

রেললাইন চালুর পর শিবচরে ট্রেনে কাটা পড়ে একাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রেললাইনে ঘোরাঘুরি ও ছবি তুলতে গিয়ে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত শিবচর অংশে ট্রেনে কাটা পড়ে কমপক্ষে অর্ধশত মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে কেউ রেললাইন পার হতে গিয়ে, আবার কেউ আত্মহত্যার কারণে মারা গেছেন।

শিবচরের পুলিয়া, মালিগ্রাম, সূর্যনগর ও পাঁচ্চর এলাকায় বিকেল হলেই রেললাইনের পাশে মানুষের জটলা দেখা যায়। সন্ধ্যার পর কোথাও কোথাও সেই ভিড় আরও বাড়ে। ট্রেন আসার সময় অনেকে সরে গেলেও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। গত মাসেও সূর্যনগর এলাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। রেল পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরেই এ এলাকায় রেল দুর্ঘটনায় অর্ধডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত থেকে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথের দৈর্ঘ্য ৩১ কিলোমিটার। এর মধ্যে শিবচরে রয়েছে পদ্মা ও শিবচর স্টেশন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে পদ্মা সেতু হয়ে আংশিকভাবে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এ পথে পুরোপুরি ট্রেন চলাচল শুরু হয়। বর্তমানে ঢাকার কমলাপুর থেকে রাজশাহী ও খুলনা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল করছে।

রেললাইনে ঘুরতে আসা কলেজ শিক্ষার্থী আফসানা আক্তার বলেন, ‘বাড়ির কাছেই রেললাইন। বান্ধবীরা মিলে এখানে এসেছি। একটু সময় কাটানো ও ছবি তোলার জন্য আসা। রেললাইনে ঝুঁকি আছে, তারপরও অনেকেই এখানে ঘুরতে আসে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এলাকায় রেললাইন নতুন। এ কারণে মানুষের কৌতূহলও বেশি। মাঝেমধ্যে পরিবার-পরিজন নিয়েও স্টেশনে ঘুরতে আসি। তবে ট্রেন আসার সময় দূরত্ব বজায় রাখি। প্রথম দিকে শিবচরের পাঁচ্চর এলাকায় রেললাইনে ছবি তুলতে গিয়ে কয়েকজন মারা গেছেন। একই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুও হয়েছিল।’

শিবচর-ভাঙ্গা রেলপথে দায়িত্ব পালনকারী রাজবাড়ী রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক নাসির উদ্দিন বলেন, ‘প্রায়ই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। মানুষের অসচেতনতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। বিকেল হলেই অনেকে রেললাইনে আড্ডা দেন, হাঁটাহাঁটি করেন। অনেকেই ট্রেনের সময়সূচি জানেন না। আবার ট্রেন আসতে দেখেও কেউ কেউ রেললাইন পার হওয়ার চেষ্টা করেন। ট্রেনের গতি সম্পর্কেও অনেকের ধারণা নেই। এ কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।’


শিবচর স্টেশনের মাস্টার মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘এই রেলপথটি খুবই গতিশীল। এখানে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটারের বেশি গতিতে ট্রেন চলাচল করে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত রেললাইনে মানুষের হাঁটাহাঁটি বন্ধ করতে হবে। মানুষের অসচেতনতার কারণেই প্রাণহানি বেশি হচ্ছে। স্টেশনের আশপাশে দর্শনার্থীরা এলে আমরা তাঁদের সচেতন করার চেষ্টা করি।

রেললাইনে মানুষের অবাধ বিচরণ বন্ধে নিয়মিত সচেতনতা কার্যক্রম ও নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দেরও রেললাইনে হাঁটাহাঁটি, আড্ডা ও ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তা না হলে বিনোদনের জন্য রেললাইনে আসা মানুষের এই ভিড় আরও প্রাণহানির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   ঝুঁকি  রেললাইন  ভ্রমণপ্রেমীদের ভিড়  শিবচর  মাদারীপুর  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: