বৈদেশিক উন্নয়ন সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশে এনজিওগুলোর নতুন প্রকল্প নেওয়ার প্রবণতা কমছে। বিশেষ করে বিদেশি অনুদানের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ও মাঝারি এনজিওগুলো নতুন প্রকল্প হাতে নিতে গিয়ে অর্থ সংকটে পড়ছে। এর প্রভাব পড়স্থাপিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকেছে প্রকল্প অনুমোদনের সংখ্যাতেও। চার বছরের ব্যবধানে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে অনুমোদিত নতুন প্রকল্পের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪৮০টি।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) আয়োজিত ‘বিয়ন্ড ফরেন ডিপেন্ডেন্স : দ্য ফিউচার অব এনজিও ফাইন্যান্সিং ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থাপিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গবেষণাপত্রটি উপস্থাপন করেন বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে নতুন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছিল ২ হাজার ৬৩টি। ২০২৫িএস বলছে, বৈশ্বিকভাবে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। ২০২৫ সালে ধনী দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা প্রকৃত অর্থে ২৩ শতাংশ-২৬ অর্থবছরে এ সংখ্যা নেমে এসেছে ১ হাজার ৫৮৪টিতে। অর্থাৎ চার বছরে নতুন প্রকল্প অনুমোদন কমেছে ৪৭৯টি।
বিআইডিএস বলছে, বৈশ্বিকভাবে উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়াই এর অন্যতম কারণ। ২০২৫ সালে ধনী দেশগুলোর উন্নয়ন সহায়তা প্রকৃত অর্থে ২৩ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসএআইডি বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সও তাদের সহায়তা বাজেট কমিয়েছে।
তবে আগের অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশে সংকটের পূর্ণ প্রভাব এখনো দেখা যায়নি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনজিওবিষয়ক ব্যুরোর মাধ্যমে ১০ হাজার ৪৮০ কোটি টাকার বৈদেশিক অনুদান ছাড় হয়েছে। গবেষণায় আশঙ্কা করা হয়েছে, নতুন প্রকল্পের অনুমোদন কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে এনজিওগুলোর কার্যক্রম আরও সংকুচিত হতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বৈদেশিক অনুদানের ওপর প্রায় পুরোপুরি নির্ভরশীল আনুমানিক ২ হাজার ২০০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি এনজিও সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম নেই।
৪৬টি এনজিওর ওপর পরিচালিত জরিপে দেখা যায়, শুধু বৈদেশিক অনুদানের ওপর নির্ভরশীল প্রতি তিনটির মধ্যে দুটি এনজিও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তাদের বাজেট গড়ে ৪০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থাকা এনজিওগুলোর বাজেট কমেছে ১২ শতাংশ।
সংকট মোকাবিলায় সরকারি ক্রয়, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর), পিকেএসএফ ও এনজিও ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অর্থায়ন বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বিআইডিএস। পাশাপাশি সামাজিক ব্যবসার আইনি স্বীকৃতি ও কর সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সেমিনারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানে এনজিও এবং বেসরকারি খাতকে যুক্ত করে একটি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের কাঠামো তৈরির পরিকল্পনা করছে সরকার।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আব্দুর রহিম সাকি বলেন, এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে এনজিওগুলোর বৈদেশিক অর্থায়ন আরও কমে আসতে পারে। এ অবস্থায় গ্রিন ও কার্বন ফাইন্যান্সের মতো বিকল্প অর্থের উৎস কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ