আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ—এরই মধ্যে নিশ্চিত। তবে বিদায়টা যে সাদামাটা হবে না, সেটিও পরিষ্কার হয়ে গেছে। দেশের মাটিতে মেসিকে শেষবার দেখার সুযোগকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ আয়োজন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। যেখানে গান, জাতীয় সংগীত, ম্যাচ, বিরতিতে পরিবেশনা, ড্রোন শো ও আতশবাজির পাশাপাশি রাখা হয়েছে একটি রহস্যময় ‘সারপ্রাইজ’।
বাংলাদেশ সময় বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর ৫টায় বুয়েন্স আয়ার্সের এস্তাদিও মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৮টায় শুরু হবে ম্যাচটি। এ ম্যাচের মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামবেন মেসি।
৩১ আগস্ট মেসি জানিয়েছিলেন, বিশ্বকাপের ফাইনালই ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে তার শেষ ম্যাচ। তবে এএফএর বিশেষ অনুরোধে দেশের মাটিতে আরেকটি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই ম্যাচটিকেই এখন মেসির আনুষ্ঠানিক বিদায়ী আয়োজন হিসেবে সাজানো হয়েছে।
ম্যাচের অনেক আগে থেকেই শুরু হবে উৎসব। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে ‘উন পোকো দে রুইদো’ দিয়ে শুরু হবে আয়োজন। এরপর একে একে মঞ্চে দেখা যাবে সেবাস্তিয়ান মেন্দোসা, রোমান এল অরিজিনাল, আমার আসুল, সান্তি কাইরো, কিউলোকুরা ও দামাস গ্রাতিসকে।
আয়োজনের নির্দিষ্ট সূচি অনুযায়ী, বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে সেবাস্তিয়ান মেন্দোসা, ৫টা ৫০ মিনিটে রোমান এল অরিজিনাল, ৬টায় আমার আসুল, ৬টা ১০ মিনিটে সান্তি কাইরো এবং ৬টা ২০ মিনিটে কিউলোকুরা পরিবেশনা করবেন। রাত ৭টায় মঞ্চে উঠবেন দামাস গ্রাতিস।
এরপর রাত ৮টায় মালভিনাস যুদ্ধের সাবেক সৈনিক ফাবিও সান্তানার কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল ম্যাচ। বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সেটি হবে বুধবার ভোর ৫টা। ম্যাচের বিরতিতেও থাকছে আলাদা আয়োজন। সে সময় গান পরিবেশন করবেন গাসপার বেনেগাস।
তবে মেসির বিদায়ের রাতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ অপেক্ষা করছে ম্যাচ শেষে। স্থানীয় সময় রাত ১০টা ৩ মিনিটে শুরু হবে ড্রোন ও আতশবাজির শো। এরপর ১০টা ১০ মিনিটে মঞ্চে উঠবেন ‘লা সোলে’। পাঁচ মিনিট পর, ১০টা ১৫ মিনিটে পরিবেশনা করবেন উলিসেস বুয়েনো।
এরপরই আসবে সেই রহস্যময় মুহূর্ত। রাত ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে আয়োজনের শেষ সূচিতে শুধু লেখা রয়েছে—‘সোরপ্রেসা’, অর্থাৎ ‘চমক’। সেখানে কোনো শিল্পীর নাম কিংবা বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এএফএও প্রকাশ করেনি, শেষ মুহূর্তের সেই বিশেষ আয়োজনটি কী।
ফলে মেসির বিদায়ী ম্যাচকে ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় কৌতূহল এই ‘সারপ্রাইজ’ নিয়েই। মেসিকে কীভাবে বিদায় জানানো হবে, শেষ মুহূর্তে কী অপেক্ষা করছে—সেটিই দেখার।
শুধু মনুমেন্টাল নয়, মেসির বিদায়ী ম্যাচ ঘিরে বুয়েন্স আয়ার্সজুড়েও থাকছে নানা আয়োজন। ইউনিভার্সিটি অব বুয়েন্স আয়ার্সের সিউদাদ ইউনিভার্সিতেরি ক্যাম্পাসে দুপুর ১২টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলবে এএফএর ‘গ্রাসিয়াস, লিও’ ফ্যান ফেস্ট। সেখানে গান, বিনোদন, খাবার ও খেলাধুলার পাশাপাশি বড় পর্দায় আর্জেন্টিনা-বেনিন ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা থাকবে।
ফিফাও নিশ্চিত করেছে, বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটিই আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ উপস্থিতি। এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া আগেই জানিয়েছিলেন, দেশের মাটিতে মেসিকে প্রাপ্য বিদায় দিতে চায় আর্জেন্টিনা। সেই বিদায় কতটা স্মরণীয় হয়, তার উত্তর মিলবে আজকের রাতেই।
সময়ের আলো/জেডি