রোনালদোকে ঘিরে পর্তুগাল জাতীয় দলের সাম্প্রতিক বিতর্কের পর অবশেষে মুখ খুলেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দীর্ঘ বিবৃতিতে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছাড়ার কারণ, প্রধান কোচের সঙ্গে তার কথোপকথন, নরওয়ের ম্যাচে ওয়ার্মআপ করেও মাঠে না নামা এবং পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচের বক্তব্য নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন পর্তুগিজ তারকা।
তিনি জানিয়েছেন, কোচের কথা না রাখায় তার আস্থা ভেঙে যায় এবং তখনই ক্যাম্প ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে সতীর্থ, সমর্থক ও পর্তুগালের মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন রোনালদো। তবে শাস্তি শেষ করে শারীরিকভাবে ফিট থাকলে জাতীয় দলের হয়ে আবারও খেলতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) মধ্যরাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে রোনালদো এসব কথা বলেন।
প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, জাতীয় দলের সর্বশেষ ক্যাম্পে আসলে কী ঘটেছিল, এবার সেটা আমি নিজেই, সরাসরি এবং নিজের ভাষায় বলব। সেই কথাই রাখতে বসেছি।
২০২৬ বিশ্বকাপের পর পর্তুগালের মানুষের উদ্দেশে আমি একটি চিঠি লিখেছিলাম। চিঠিটা এখনো আমার কাছে আছে। জাতীয় দল থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়ার সময় পর্তুগিজদের যে কথাগুলো বলতে চাই, সেগুলোই সেখানে লিখেছিলাম।
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার বিমানে ফেডারেশনের সভাপতি আমাকে জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্তটা আরেকবার ভেবে দেখতে বলেন। তিনি বেশ জোর দিয়েই অনুরোধ করেছিলেন, কারণ ফেডারেশন চেয়েছিল আমি যেন আরও কিছুদিন জাতীয় দলে থাকি।
এরপর তিনি আমাকে বর্তমান প্রধান কোচের ব্যাপারে আমার মতামত জানতে চান। তিনি আরও কয়েকজনের নামও বিবেচনা করছিলেন, যদিও সেই নামগুলো আমাকে বলেননি। আমি তাকে বলেছিলাম, আমার মতে বর্তমান কোচই এই দায়িত্বের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।
তাই যেদিন তার নাম ঘোষণা করা হলো, আমি সত্যিই খুশি হয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল, এটাই সঠিক সিদ্ধান্ত। এখন পর্যন্ত ফলাফলও সেটাই বলছে।
এর কয়েক দিন পর নতুন প্রধান কোচ প্রথমবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। আমি রাজি হই এবং ছুটি শেষে দেখা করার দিন ঠিক করি।
আমাদের দেখা হয় সিদাদে দে ফুটবলে। তখন আমার ক্লাব সেখানে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি নিচ্ছিল। সেদিন প্রধান কোচ আমাকে পরিষ্কার করে বলেন, তিনি আমাকে দলে চান এবং তার পরিকল্পনায় আমার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আমার জন্য একটি পরিকল্পনাও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, আমি প্রথম ম্যাচ এবং শেষ ম্যাচ খেলব। আর শারীরিকভাবে আমাকে ঠিক রাখতে প্রতিটি ম্যাচে তিন-চারজন খেলোয়াড় বদল করবেন।
এরপর তিনি প্রস্তাব দেন, নরওয়ে ও ডেনমার্কে দলের সঙ্গে আমার না যাওয়াই ভালো। তার পরিকল্পনা ছিল, আমি প্রথম ম্যাচটি খেলব, তারপর পর্তুগালেই থাকব এবং দো দ্রাগাওয়ে ম্যাচের আগে আবার দলের সঙ্গে যোগ দেব।
আমি সঙ্গে সঙ্গেই এই প্রস্তাব নাকচ করে দিই। আমার কাছে এটা গ্রহণ করার কোনো সুযোগই ছিল না। বিদেশের ম্যাচগুলোতে আমি না খেললেও আমি দলের অধিনায়ক। শুধু আমার জন্য পর্তুগালে থেকে যাওয়ার এই সুবিধা নেওয়া দলের জন্য ভালো উদাহরণ হতো না।
শেষ পর্যন্ত কোচও আমার কথার সঙ্গে একমত হন।
সেই কথোপকথনের সময় সিমাও কুতিনিও উপস্থিত ছিলেন। তিনি আল নাসরের স্পোর্টিং ডিরেক্টর এবং গত মৌসুমে বর্তমান কোচ তার কাছেই রিপোর্ট করতেন। ২০২৫ সালে কোচকে আল নাসরে নিয়ে আসার ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
ক্যাম্প শুরু হওয়ার আগের দিন প্রধান কোচ নিজেই আমার লিসবনের বাড়িতে আসেন। তার অনুরোধেই আমাদের আবার কথা হয়। আলোচনা ছিল শান্তিপূর্ণ। আগস্টে আমরা যে বিষয়গুলোতে একমত হয়েছিলাম, সেগুলোই বহাল ছিল।
আমি আলভালাদেতে ম্যাচটি খেললাম। পরে আমাকে বদলি করা হয়, কিন্তু আমি কোনো আপত্তি করিনি। নিজেই ব্রুনো ফার্নান্দেসের হাতে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তুলে দিয়েছিলাম। তখন কে জানত, হয়তো জাতীয় দলের খেলোয়াড় এবং অধিনায়ক হিসেবে সেটিই আমার শেষ কয়েকটি মুহূর্তের একটি।
সেদিন আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল আমাদের জয়। জেতা সবসময়ই ভালো লাগে। আর পর্তুগালের হয়ে জেতার আনন্দ তো আরও বেশি।
নরওয়ের ম্যাচের দিন দুপুরে দলের সঙ্গে খেতে বসেছি। এমন সময় কোচের একজন সহকারী এসে আমাকে বললেন, প্রধান কোচ আমার সঙ্গে কথা বলতে চান।
আমি পুরোপুরি অবাক হয়ে গেলাম।
কোচ আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমি কি ৩০ মিনিট খেলতে পারব? তখন আমি পুরোপুরি শরীরের পুনরুদ্ধারের দিকে মন দিচ্ছিলাম, অন্য সবার মতো দলের সঙ্গেই ছিলাম এবং ধরে নিয়েছিলাম সেদিন আমি খেলব না। তাতে আমার কোনো সমস্যা ছিল না।
কিন্তু এই অনুরোধটা আমার নির্ধারিত পুনরুদ্ধার ও অনুশীলন পরিকল্পনার বাইরে ছিল। আমার তো শুধু ৪ তারিখ দো দ্রাগাওয়ের ম্যাচে খেলার কথা ছিল। তারপরও আমি স্বাভাবিকভাবেই রাজি হয়ে গেলাম।
তিনি আমাকে বললেন, তাহলে প্রস্তুত থাকতে, কারণ আমি ৩০ মিনিট খেলব।
এরপর কী হয়েছে, সেটা সবাই জানেন।
দ্বিতীয়ার্ধের বিরতি থেকেই আমি ওয়ার্মআপ করতে থাকলাম। একের পর এক মিনিট চলে গেল। কিন্তু আমাকে আর মাঠে নামানো হলো না।
কোচ তার কথা রাখেননি।
ম্যাচ শেষে আমার একটাই ইচ্ছা ছিল—সবকিছু যেন শেষ হয়, আমরা যেন ম্যাচটা জিতে ফিরি, আর আমাকে যেন একটু একা থাকতে দেওয়া হয়।
আমি সমর্থকদের অভিবাদন জানাতে যাইনি। এটা আমার ভুল। এমনটা হওয়া উচিত ছিল না। এর দায় সম্পূর্ণ আমার।
সেদিন সেখানে আমাদের সমর্থন করতে আসা পর্তুগিজদের কাছে আমি ক্ষমা চাইছি। সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আর যারা পর্তুগিজ না হয়েও শুধু আমাকে দেখতে সেখানে গিয়েছিলেন এবং হয়তো আমার আচরণে কষ্ট পেয়েছেন, তাদের কাছেও ক্ষমা চাইছি।
এর ৪৮ ঘণ্টা পর আমরা আবার কথা বলি। সেখানে ছিলাম আমি, প্রধান কোচ এবং সিমাও কুতিনিও। আগস্টের আলোচনাগুলোতেও তিনি উপস্থিত ছিলেন।
সেটা ছিল খুব খোলামেলা এবং গভীর একটি আলোচনা। কোনো কিছুই লুকানো হয়নি।
আমরা ঠিক করলাম, এই বিষয়টা শেষ করার একটাই উপায় আছে। কোচ আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যা বলেছেন, সেটাই সিমাও কুতিনিওর সামনে সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে বলবেন।
পরিকল্পনাটা খুব সহজ ছিল।
প্রধান কোচ সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই বিষয়টি তুলে ধরবেন এবং সত্যিটা বলেই ব্যাপারটা শেষ করবেন।
তিনি বলবেন, আমি কখনোই কয়েক মিনিট খেলার জন্য অনুরোধ করিনি। এই ক্যাম্পের পরিকল্পনা তিনিই নিজে আমাকে দিয়েছিলেন। আমাকে ওয়ার্মআপ করিয়ে পরে মাঠে না নামানো তার ভুল ছিল। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি হলে তিনি আর সেটা করবেন না।
সেই বৈঠক শেষে কোচ আমাকে জড়িয়ে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, সংবাদ সম্মেলনে তিনি আমাকে যা বলেছেন, সেটাই বলবেন এবং এরপর আমরা বিষয়টা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাব।
আমি ডেনমার্কে খেলব না, আর দো দ্রাগাওয়ের ম্যাচে খেলব—এটাই ঠিক হয়েছিল। সিমাও কুতিনিও তখন পুরো বিষয়টির সাক্ষী ছিলেন।
এরপর কোচের অনুরোধে তার সঙ্গে সিমাও কুতিনিও এবং তিয়াগো ক্রাভেইরোর একটি ভিডিও বৈঠক হয়। সেখানে আমাদের আলোচনার বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়।
এরপর একটি ছোট নোট তৈরি করা হয়। আমি নিজে সেটি পড়ে অনুমোদন করি। আমার সম্মতিতেই সেটি কোচের কাছে পাঠানো হয়, কারণ তিনিই এটা চেয়েছিলেন।
কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে যা হলো, তা আগের দিনের আমাদের কথাবার্তার সঙ্গে একেবারেই মেলেনি।
আমি এমন কিছু কথা শুনলাম, এমন আক্রমণাত্মক আচরণ দেখলাম, যা আমার মনে হয়েছে আমি প্রাপ্য ছিলাম না। সেখানে এমন এক ধরনের ঔদ্ধত্য ছিল, যা আগের দিন ব্যক্তিগতভাবে আমার সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি একবারও দেখাননি।
আমি যে নোটগুলো অনুমোদন করেছিলাম, সেগুলো ছিল এমন:
“ডেনমার্ক নিয়ে কথা বলার আগে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। সবচেয়ে বড় কথা, এগুলো সত্য।
১. জাতীয় দলে এই মৌসুমের জন্য ক্রিশ্চিয়ানোকে যে পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল, সেটা আমি নিজেই দিয়েছিলাম। অন্য কেউ নয়। আমাদের মধ্যে দীর্ঘ এবং খুব ভালো একটি আলোচনা হয়েছিল।
২. আমি জানি জাতীয় দলকে সে কতটা ভালোবাসে এবং এর জন্য কতটা নিবেদিত। বিশ্বজুড়ে তার গুরুত্ব কতটা, সেটাও জানি। আর জাতীয় দলের হয়ে টানা ২৪ বছর ধরে সে যে ইতিবাচক প্রভাব রেখে এসেছে, তার গুরুত্ব তো আরও বেশি।
৩. আমি যে পরিকল্পনা দিয়েছিলাম, ক্রিশ্চিয়ানো সেটি মেনে নিয়েছিল।
৪. সে কখনো আমার কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেনি। সে ছিল অত্যন্ত পেশাদার, বিশ্বস্ত এবং আদর্শ একজন খেলোয়াড়।
৫. নরওয়ের ম্যাচটি তার জন্য করা মূল পরিকল্পনার অংশ ছিল না। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল, প্রথম ম্যাচের পর সে শারীরিকভাবে যথেষ্ট সুস্থ হয়ে উঠেছে। তাই তাকে জানিয়েছিলাম, হয়তো আমাকে তাকে খেলাতে হতে পারে। ক্রিশ্চিয়ানো রাজি হয়েছিল।
৬. পেলé বা ম্যারাডোনার মতো মর্যাদার একজন খেলোয়াড়কে ওয়ার্মআপ করিয়ে পরে মাঠে না নামানো আমার ভুল ছিল। আজ একই পরিস্থিতি হলে আমি আর এমনটা করতাম না।
৭. বিষয়টি এখানেই শেষ করতে চাই। আমি জাতীয় দলে ক্রিশ্চিয়ানোকে চাই। আসলে একটু চাই না, আমি তাকে অনেক বেশি চাই। সৌভাগ্যক্রমে সেও আমাকে বিশ্বাস করে। আল নাসরে সে আমাকে বিশ্বাস করেছে, এখানেও করছে।
৮. সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো নিয়ে আমরা ইতিমধ্যেই কথা বলেছি। জাতীয় দলের হয়ে ২৩০টির বেশি ম্যাচ খেলা একজন মানুষকে পর্তুগালের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে আমার কাছ থেকে কোনো শিক্ষা নিতে হবে না। সেটা ছিল হতাশার একটি মুহূর্ত। সেটি তার এত বছরের সবকিছুকে মুছে দেয় না। সে-ই এমন একজন খেলোয়াড়, যে সবচেয়ে বেশি অটোগ্রাফ দেয়, সবচেয়ে বেশি সেলফি তোলে এবং সমর্থকদের সবচেয়ে বেশি ভালোবাসা দেখায়। যেখানে কোনো সমস্যা নেই, সেখানে সমস্যা তৈরি করার দরকার নেই। আমরা যখন হতাশ হই, তখন কখনো কখনো প্রতিক্রিয়া দেখাই। সেটাই হয়েছে।”
অর্থাৎ, এই নোটগুলোর কোথাও কোচের আমার কাছে ক্ষমা চাওয়ার কথা ছিল না।
কিন্তু এটা ছিল দ্বিতীয়বার, যখন তিনি আমার সঙ্গে করা কথা রাখলেন না।
তাই আর কোনো প্রতিশ্রুতি ভাঙার অপেক্ষা না করে আমি ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।
আমার কাছে মানুষের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সত্যের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই। সত্য যতই কষ্ট দিক, আমাকে সত্যিটাই বলুন।
সংবাদ সম্মেলনের দিন সকালে ফেডারেশনের সভাপতি এবং প্রধান কোচের সঙ্গে আমার যে কথা হয়েছিল, তারা চাইলে সেটার সত্যতাও নিশ্চিত করতে পারবেন।
আমি তাদের আবারও বলেছিলাম, তারা যদি আমাকে না চান, তাহলে শুধু সরাসরি সেটা আমাকে বলুন। আমার সঙ্গে সৎ থাকুন। আমি সেটা মেনে নেব। এমনকি আমি বলেছিলাম, আমরা সুন্দরভাবে বিদায়ের একটা ব্যবস্থা করতে পারি—যেভাবে আমি সবসময় স্বপ্ন দেখি। কেউ কারও ওপর রাগ করবে না।
সেই মুহূর্তটা আজও আমার মনে আছে।
তারা দুজন একসঙ্গে বলেছিলেন, না। জাতীয় দলে আমার জায়গা আছে।
প্রায় ২৫ বছর ধরে আমি ফুটবল খেলছি। এই সময়ে কোনো কোচ বা জাতীয় দলের ম্যানেজারের কোনো কারিগরি কিংবা কৌশলগত সিদ্ধান্তে আমি কখনো হস্তক্ষেপ করিনি।
তারা যে সিদ্ধান্ত নেন, সেটা আমার পছন্দ হোক বা না হোক, আমি মেনে নিই।
কিন্তু কেউ যখন আমার সঙ্গে করা কথা রাখে না, তখন আমি মনে করি, সেখানে আমার আর থাকা উচিত নয়।
জাতীয় দলের সতীর্থদের কাছেও আমি ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য ক্ষমা চাইছি।
কোচের কথা রাখার ওপর আমার আস্থা পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছিল। যারা আমাদের কথোপকথনের সাক্ষী ছিলেন, তারা সেটা জানেন। তারপরও আমার এভাবে ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়া উচিত হয়নি। এর সম্পূর্ণ দায় আমার।
পর্তুগালের মানুষের কাছে আমি আবারও ক্ষমা চাইছি।
কিন্তু কেউ কথা রাখলে না—আমার কাছে সেটার গুরুত্ব অনেক বেশি। সেই মুহূর্তে আমার মনে হয়েছিল, আমি সেখানে থাকলে দলেরই ক্ষতি হবে।
তাই আমি সেটাই করেছি, যা সবসময় বলে এসেছি। যখন মনে হয় আমি আর দলের কাজে আসছি না, তখন ব্যাগ গুছিয়ে চলে যাই।
আমি যা করেছি, তার শাস্তি কী হবে সেটা পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশনই ঠিক করবে। আমার মতে, এখানে কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়।
আমি আর দশজন খেলোয়াড়ের মতো নই। আমি দলের অধিনায়ক। তাই এটা আমার জন্য বরং বাড়তি দায়।
আমি ক্ষমা চেয়েছি। কিন্তু আমি এটাও জানি, কাজের পরিণতি থাকতে হয়। ফুটবলে আমার মতো দীর্ঘদিন থাকা যে কেউ জানে, একজন খেলোয়াড় যত বড়ই হোক, নিয়ম সবার জন্য একই।
এখন আমি অনেক কথা শুনছি আমার বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে। বলা হচ্ছে, আমার একটা মর্যাদাপূর্ণ বিদায় পাওয়া উচিত এবং ফেডারেশন আমাকে সেই সুযোগ দিতে চায়।
জীবনে না খেয়ে, হাতে কিছু না নিয়ে আমি একটা জিনিস শিখেছি—কেউ কাউকে কিছু এমনিতেই দেয় না।
আমি আমার সব ভক্তকে, আর বিশেষ করে পর্তুগালের মানুষকে একটা কথা বলতে পারি। আমাদের এক বা একাধিক বিদায়ী ম্যাচ হবে। তার জন্য এখনো সময় আছে।
কিন্তু জাতীয় দলের কথা ভাবলে আমার মাথায় প্রথম যে কথাটা আসে, সেটা হলো—প্রতিযোগিতা করা, লড়াই করা।
আমি সবসময় এটাই ভেবেছি।
এমনকি যেদিন আমার বাবার মৃত্যুর খবর আমাকে দেওয়া হয়েছিল, সেদিনও আমি জাতীয় দলের ক্যাম্পে ছিলাম। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, পরের দিনের ম্যাচ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলের সঙ্গেই থাকব।
দেশের জন্য আমি এমন কিছু করেছি, যা কোনো ক্লাবের জন্য কখনো করতাম না।
তাই আমি যদি শারীরিকভাবে সুস্থ থাকি, ক্লাবের হয়ে খেলি, আশা করি গোলও করি, এবং যে শাস্তি দেওয়া হবে সেটা শেষ করার পর আবার খেলার সুযোগ পাই, তাহলে জাতীয় দলের হয়ে খেলতে আমি সবসময় প্রস্তুত থাকব।
আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই। আমি জিততে চাই। দেশের হয়ে যতদিন সম্ভব সেটাই করে যেতে চাই।
বিশ্বাস করুন, এটাই পুরো সত্য।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
সময়ের আলো/টিকে