আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ ম্যাচ। বুয়েনস এইরেসের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে তাই ম্যাচ শুরুর আগেই তৈরি হয়েছিল আবেগঘন এক পরিবেশ। প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে দেখতে হাজারো সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন। গান, স্লোগান, আতশবাজি আর চোখের জলে মেসিকে বিদায় জানানোর সেই আয়োজন আরও আবেগময় হয়ে ওঠে ম্যাচের দশম মিনিটে—যখন তাকে সম্মান জানাতে থামিয়ে দেওয়া হয় খেলা।
ম্যাচ শুরুর আগেই অবশ্য মেসিকে ঘিরে শুরু হয়ে যায় উৎসব। এএফএ ট্রেনিং কমপ্লেক্স থেকে আর্জেন্টিনা দলের বাস বের হওয়ার পর সড়কের দুই পাশে জড়ো হন হাজারো সমর্থক। মেসিকে একঝলক দেখতে অনেকেই রাস্তায় নেমে আসেন। বাসের পথ থেকে মানুষকে সরিয়ে রাখতে পুলিশ চেষ্টা করলেও তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। ভক্তদের উপস্থিতি ও ভালোবাসা দেখে মেসিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে জানিয়েছে টিওয়াইসি স্পোর্টস। লা ন্যাশিওনের ক্যামেরায় তাকে অশ্রুসিক্তও দেখা গেছে।
সমর্থকদের ভিড়ের কারণে দলের বাসটির মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে পৌঁছাতেই লেগে যায় এক ঘণ্টার বেশি সময়। এরপর তিন ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন মেসি। তাঁকে মাঠে দেখার মুহূর্তেই আতশবাজির ঝলকানিতে আলোকিত হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম। গ্যালারির হাজারো কণ্ঠে তখন বাজতে থাকে মেসিকে ঘিরে গান ও স্লোগান।
স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ম্যাচ শুরুর কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা পর মাঠে গড়ায় খেলা। কিক-অফের আগে মাঠের কর্মীরা বিছিয়ে দেন আর্জেন্টিনার ১০ নম্বর জার্সির বিশাল একটি প্রতিকৃতি। তবে সেখানে মেসির নামের বদলে লেখা ছিল ‘গ্রাসিয়াস’—অর্থাৎ ‘ধন্যবাদ’। সেটি দেখার পরই গ্যালারি থেকে একসঙ্গে ধ্বনিত হতে থাকে ‘মেসি, মেসি’ স্লোগান।
এরপর ফাবিও সান্তানার কণ্ঠে আর্জেন্টিনার জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয়। ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ডস) আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানার নিয়ে আবেগ ও উদ্দীপনায় জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ মেলান দর্শকেরা। সেই সময় মেসিকেও আবেগাপ্লুত দেখা যায়।
তবে আবেগের সবচেয়ে বড় মুহূর্তটি আসে ম্যাচের দশম মিনিটে। মেসির ১০ নম্বর জার্সিকে সম্মান জানিয়ে রেফারি খেলা থামিয়ে দেন। সঙ্গে সঙ্গে গ্যালারিতে দাঁড়িয়ে পড়েন হাজারো দর্শক। প্রায় দুই মিনিট ধরে করতালি আর ‘ওলে, ওলে, মেসি’ স্লোগানে প্রিয় তারকাকে অভিবাদন জানান তারা। মাঠের খেলোয়াড়েরাও মেসির সঙ্গে হাত মিলিয়ে শুভেচ্ছা জানান। স্টেডিয়ামজুড়ে তখন আবারও শুরু হয় আতশবাজির ঝলকানি।
একজন ফুটবলারের বিদায়কে ঘিরে এমন আবেগের দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়। আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির শেষ ম্যাচ তাই কেবল একটি ম্যাচ নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ভালোবাসা পাওয়া এক মহাতারকাকে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসায় বিদায় জানানোর এক স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকল।
সময়ের আলো/জেডি