সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট অনলাইনে বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্তে নেমেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার নথি বুধবার (৭ অক্টোবর) পিবিআই সিলেটের কাছে পৌঁছেছে। এরপর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী উপবন, কালনী, জয়ন্তিকা, পারাবত, উদয়ন ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে অনলাইনে টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই নির্দিষ্ট দিনের অধিকাংশ টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকিটিং ওয়েবসাইট পরিদর্শন করেও আদালতের নজরে আসে, নির্দিষ্ট দিনের টিকিট বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ট্রেনের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আদালতের সন্দেহের সৃষ্টি করে।
এদিকে টিকিট না পাওয়ায় নিয়মিত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। কাঙ্ক্ষিত টিকিট না পেয়ে অনেকে ঝুঁকি নিয়ে বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করছেন, আবার কেউ কেউ ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিচ্ছেন। ফলে একদিকে বৈধ টিকিটের যাত্রীরা টিকিট সংকটে পড়ছেন, অন্যদিকে ট্রেনে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ তৈরি হচ্ছে।
মামলার নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, একটি চক্র টিকিট বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মুহূর্তের মধ্যে ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করে তা বেশি দামে যাত্রীদের কাছে বিক্রি করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের হয়রানির পাশাপাশি পর্যটন শিল্পের বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে টিকিট অনলাইনে দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া, টিকিট না পাওয়া, বিনা টিকিটে ভ্রমণ কিংবা দাঁড়িয়ে যাত্রার সঙ্গে কোনো চক্রের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা পিবিআইয়ের তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।
মূলত, অনলাইনে টিকিট উন্মুক্ত হওয়ার পর কয়েক মিনিটের মধ্যে বিপুলসংখ্যক টিকিট কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে একসঙ্গে এত টিকিট বিক্রি হচ্ছে এবং এর পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ চক্র বা সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা রয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে তদন্ত সংস্থাটি।
বিষয়টি ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল নোমানের নজরে আসে। টিকিট হাওয়া হয়ে যাওয়ার ঘটনা পর্যালোচনা করে কালোবাজারি ও মজুতদারির মতো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে টিকিট কালোবাজারির অভিযোগে গত ২২ সেপ্টেম্বর সিলেটের আদালতে সিআর মামলা নং-০১/২০২৬ দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার, পিবিআই সিলেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার মামলার নথি পিবিআই সিলেটে পৌঁছেছে। মামলাটি তদন্ত করছেন পিবিআই সিলেটের উপ-পরিদর্শক আব্দুল আহাদ।
এখন তদন্তেই বেরিয়ে আসার অপেক্ষা, অনলাইনে টিকিট বিক্রির কয়েক মিনিটের মধ্যে টিকিট গায়েব হওয়ার পেছনে আসলে কী ঘটছে এবং এর সঙ্গে টিকিট কালোবাজারি চক্রের কোনো যোগসূত্র আছে কি না।
সময়ের আলো/আতা