জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ওয়াইল্ডলাইফ রেসকিউ সেন্টারের (ডব্লিউআরসি) পাশের জঙ্গল থেকে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগতকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সন্দেহজনকভাবে ওই পাঁচজনকে জঙ্গল থেকে বের হতে দেখে শিক্ষার্থীরা তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীরা জানান, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ডব্লিউআরসি সংলগ্ন জঙ্গল থেকে তিন নারী ও দুই পুরুষকে বের হতে দেখা যায়। এ সময় তাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ওই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থল থেকে চলে যাওয়ায় তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, গভীর রাতে জঙ্গল এলাকা থেকে পাঁচজনকে বের হতে দেখে তাদের গতিবিধি নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে তাদের থামিয়ে পরিচয় ও ক্যাম্পাসে প্রবেশের কারণ জানতে চাওয়া হয়। এ সময় তাদের দেওয়া পরিচয়ে অসংগতি পাওয়া যায় বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, প্রাথমিকভাবে ওই পাঁচজনের একজন নিজেকে বিবাহিত বলে দাবি করেন। তবে সঙ্গে থাকা নারীরা তা অস্বীকার করলে পরে তারা পরস্পরের বন্ধু ও পরিচিত বলে জানান। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের গার্মেন্টসকর্মী বলেও পরিচয় দেন। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে জন্মনিয়ন্ত্রণের ট্যাবলেট পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের বিষয়ে তাদের কাছে জানতে চান শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে কোনো পরিচিত বা রেফারেন্স রয়েছে কি না জানতে চাইলে তারা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন বলে শিক্ষার্থীদের দাবি। পরে একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই পাঁচজনকে চেনেন না বলে জানান।
এরপর শিক্ষার্থীরা পাঁচজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাদের সিকিউরিটি কন্ট্রোলরুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম বলেন, ভোর চারটার দিকে তিনজন মেয়ে এবং দুইজন ছেলে বহিরাগত ধরা পড়ছে। তাদের সিকিউরিটি কন্ট্রোলরুমে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তারা যেহেতু বহিরাগত, অধিকতর ইনভেস্টিগেশনের জন্য সিকিউরিটি অফিসের মাধ্যমে পুলিশ ডেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিরাপত্তা শাখার পক্ষ থেকে আশুলিয়া থানায় খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে ওই পাঁচজনকে থানায় নিয়ে যায়।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। আমরা ওই পাঁচজনকে আটক করে থানায় নিয়ে এসেছি। তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা