প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর, কাটল ১৩ বছরের অপেক্ষা

সময়ের আলো ডেস্ক

শিক্ষা

পদমর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, অথচ বেতন পাচ্ছিলেন ১১ ও ১২তম গ্রেডে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ১৩ বছর

2026-10-08T11:28:43+00:00
2026-10-08T11:41:21+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর, কাটল ১৩ বছরের অপেক্ষা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৮ এএম  আপডেট: ০৮.১০.২০২৬ ১১:৪১ এএম
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সুখবর, কাটল ১৩ বছরের অপেক্ষা
পদমর্যাদায় দ্বিতীয় শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা, অথচ বেতন পাচ্ছিলেন ১১ ও ১২তম গ্রেডে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ১৩ বছর ধরে চলা এই বৈষম্যের অবসান হতে যাচ্ছে। প্রায় ১০ মাস আগে আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশে পদমর্যাদা অনুযায়ী দশম গ্রেডে বেতনভাতা উন্নীত হয়েছে। তবে এতদিন বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি ঠিক না হওয়ায় সেই অনুযায়ী বেতন পাননি তারা। অবশেষে দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি আইবাস প্লাস প্লাস সফটওয়্যারে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ।       

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন-২ অনুবিভাগ এ-সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। তবে বকেয়া বেতন-ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছে। আদেশে বলা হয়, প্রশাসনিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরকারি আদেশ জারির তারিখের আগে কোনো আর্থিক বকেয়া প্রধান শিক্ষকরা প্রাপ্য হবেন না। 

প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়টি দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ফল। ২০১৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে বেতন স্কেল দশম গ্রেড করা এবং গেজেটেড পদমর্যাদা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণবিহীন–উভয় ধরনের প্রধান শিক্ষকের ক্ষেত্রে ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে এ সুবিধা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।  

পাশাপাশি হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা গ্রহণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের আয়ন-ব্যয়ন কর্মকর্তার ক্ষমতা দেওয়ার নির্দেশও দেন আদালত। পরে হাইকোর্টের ওই রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।  


প্রধান শিক্ষকদের বেতন নির্ধারণ নিয়ে আদালতে রিট করা ব্যক্তিদের একজন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি রিয়াজ পারভেজ। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করা হয়েছিল। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরে রায় দেন।

২০১৪ সালের ৯ মার্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদটি দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করে সরকার। একই দিন এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত হলেও বেতন নির্ধারণে তার প্রতিফলন ঘটেনি। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রবেশ পদে ১১তম এবং প্রশিক্ষণবিহীনদের ১২তম গ্রেডে রাখা হয়।  

বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী দশম গ্রেডে মূল বেতন শুরু ৩২ হাজার টাকা থেকে। এ গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৭,৩০০ টাকা। এর আগে দশম গ্রেডের পুরোনো বেতন কাঠামোয় মূল বেতন ছিল ১৬ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৩৮ হাজার ৬৪০ টাকা।

প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড বাস্তবায়নের উদ্যোগের মধ্যেই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গ্রেড বাড়ানোর দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে সহকারী শিক্ষকরা জাতীয় বেতন স্কেলের ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন।  

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সহকারী শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বেতন গ্রেড ১৩তম থেকে ১১তম করার প্রস্তাব জাতীয় বেতন কমিশনে পাঠিয়েছিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।  


সময়ের আলো/ইউএমএইচ

  বিষয়:   প্রাথমিক  প্রধান শিক্ষক  পদমর্যাদা  বেতন 


Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: