নীল আকাশে সাদা মেঘের ওড়াউড়ি এবং মাটির বুকে বাতাসের হিল্লোলে দুলছে শুভ্র কাশফুল। ভাদ্র-আশ্বিনের এই স্নিগ্ধ দুপুরে প্রকৃতি যেন তার সবটুকু রূপ ঢেলে সাজিয়েছে উত্তরের শেষ জনপদ তেঁতুলিয়াকে।
ভারত থেকে বয়ে আসা সীমান্ত নদী মহানন্দা। এই নদীর দুপাড় এখন ঢেকে গেছে কাশবনের শুভ্র চাদরে। এই ক্যানভাসে বাড়তি মুগ্ধতা যোগ করেছে উত্তরের দিগন্তে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকা হিমালয়ের পর্বতশৃঙ্গ ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা’। নদী, পাহাড় ও কাশফুলের এমন ত্রিবেণী সঙ্গম বোধহয় কেবল এখানেই সম্ভব।
সাদা মেঘের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফোটা এই রূপ উপভোগ করতে প্রতিদিন ভিড় করছেন শতশত পর্যটক। কেউ শাড়ির শুভ্রতায় নিজেকে সাজিয়ে কাশবনে হারিয়ে যাচ্ছেন, কেউবা ক্যামেরাবন্দি করছেন প্রিয় মুহূর্তগুলো।
পর্যটকরা বলছেন, আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে নদীর ধারে কাশবনও দেখার সুযোগ পেয়েছি। এই দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছি। মনে হচ্ছে, কোনো স্বপ্নের রাজ্যে চলে এসেছি।
স্থানীয়রা বলছেন, একসময় এই কাশগাছ কেবল ঝাড়ু বা ঘরের বেড়া তৈরির কাজে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু সময়ের আবর্তে এটি এখন তেঁতুলিয়ার পর্যটনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
তেঁতুলিয়া ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সম্পাদক রনি মিয়াজী জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘার সঙ্গে শরতের কাশবন আমাদের পর্যটনকে অনেক সমৃদ্ধ করেছে। পরিকল্পিতভাবে এগুলো রক্ষা করা গেলে তেঁতুলিয়া হবে দেশের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্র।
ধোঁয়া ওঠা এক কাপ চা হাতে নিয়ে তেঁতুলিয়ার মহানন্দার পাড়ে বসে কাঞ্চনজঙ্ঘা ও কাশবনের দোলা দেখার এই সুযোগ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য যেন এক পশলা প্রশান্তির নাম।
সময়ের আলো/মহু