বাজারে যে চারকমলার দাম বড়জোর ১০০ টাকা, সেই কমলাই ওয়াজ মাহফিলের মঞ্চে নিলামে বিক্রি হলো ৫০ হাজার টাকায়! ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সর্বোচ্চ দর দিয়ে পবিত্র এই ফলগুলো কিনে নেন এক যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মরিচা মাদরাসার বার্ষিক ওয়াজ মাহফিলে এই ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। পুরো ওয়াজ মাহফিল ও নিলাম পর্বটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, মাহফিলের শেষ বক্তা ও প্রধান অতিথি শায়খুল হাদিস মুফতি মুশাহিদ আলী ক্বাসেমীর গুরুত্বপূর্ণ বয়ান ও মোনাজাতের আগে মাদরাসার পক্ষ থেকে এক হালি (চারটি) কমলা প্রকাশ্যে নিলামে তোলা হয়। মাত্র ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এই নিলামে উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে দাম হাঁকাহাঁকি শুরু হয়। একের হাত বদল হয়ে শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দর হাঁকিয়ে কমলাগুলো কিনে নেন যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকন। এছাড়া একই মাহফিলে আধা কেজি খেজুরও ১৫ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রি হয়।
মাদরাসার শুভাকাঙ্ক্ষী ও শ্রোতারা জানান, নিলামে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মূল লক্ষ্য ছিল মাদরাসার মতো একটি দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহযোগিতা করা। সাধারণ মানুষের সাহায্য-সহযোগিতার ওপর নির্ভর করেই মূলত এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে।
কমলাগুলো কিনে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আব্দুল মালিক রুকনের ছেলে আব্দুল আজিজ সালমান বলেন, ‘আমার বাবা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার কথা চিন্তা করেই এই কমলাগুলো কিনেছেন। এছাড়া তিনি প্রতি বছর নিয়মিতভাবে মাদরাসায় ৩৬ হাজার টাকা করে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দিয়েছেন। আমাদের পরিবার সবসময় মাদরাসার উন্নয়নের পাশে রয়েছে।’
মরিচা মাদরাসার সভাপতি সোলেমান আহমেদ ও মুহতামিম হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম শাহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদ্রাসার তহবিলে সহায়তার উদ্দেশ্যে তারা গত কয়েক বছর ধরে ওয়াজ মাহফিলে বিভিন্ন ফল নিলামে তোলার রেওয়াজ চালু করেছেন। ফলের প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে নিলামে দাম বহু গুণে বেশি ওঠার মূল কারণ হলো মানুষের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতার উদার মানসিকতা। নিলামে যারা এসব ফল কিনে নেন, তারা মূলত মাদ্রাসার নিঃস্বার্থ শুভাকাঙ্ক্ষী।
সময়ের আলো/জোই