আধুনিক, নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সুপারিশ করেছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশকে অন্যতম প্রধান অ্যাভিয়েশন হাব ও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে মন্ত্রণালয়ের অধীন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ও বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে ১৫ দেশের ২৩টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। এসব গন্তব্যের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ ও মদিনা; সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি; ভারতের দিল্লি ও চেন্নাই; যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও ম্যানচেস্টারসহ বিভিন্ন দেশ।
বর্তমানে বিমানের বহরে নিজস্ব ১৯টি উড়োজাহাজসহ মোট ২১টি উড়োজাহাজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে নতুন গন্তব্য হিসেবে মালদ্বীপের মালে, চীনের কুনমিং, অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা, দক্ষিণ কোরিয়ার সিউল ও চীনের উহানে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। বাহরাইনে আবারও ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের ক্যাটাগরি-১ অর্জন সাপেক্ষে নিউইয়র্কে ফ্লাইট পরিচালনার প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বোয়িংয়ের সঙ্গে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি এবং এয়ারবাসের সঙ্গে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার কার্যক্রমের কথা বৈঠকে জানানো হয়।
বৈঠকে পর্যটন খাতের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে পর্যটন খাতের অবদান ছিল ৩ দশমিক ০২ শতাংশ। ২০৩০ সালের মধ্যে এ অবদান ৬ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ১০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
পর্যটন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, বাজেটের সর্বোত্তম ব্যবহার ও বরাদ্দ বাড়ানো, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ নীতিমালা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পর্যটনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম, বাস্তবায়িত প্রকল্প এবং শূন্যপদ সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার সুপারিশ করেছে। শূন্যপদগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী অ্যাভিয়েশন খাতে প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার অবদানের কথা তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শ দেন তিনি।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জসীম উদ্দীন আহমেদ, সুরাইয়া জেরিন, শওকত আরা আক্তার, কামরুল হাসান ও আবু তালিব অংশ নেন।
সময়ের আলো/এসএকে