কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ, দুই প্রকৌশলীকে শোকজ

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সারাদেশ

পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বাস্তবে কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ এবং অতিরিক্ত বিল গ্রহণের অভিযোগে এলজিইডির দুই প্রকৌশলীকে কারণ

2026-10-08T20:35:43+00:00
2026-10-08T20:35:43+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ, দুই প্রকৌশলীকে শোকজ
পটুয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম 
কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ, দুই প্রকৌশলীকে শোকজ
পটুয়াখালী সদর উপজেলায় বাস্তবে কাজ না করেই ঠিকাদারকে বিল দেওয়ার সুপারিশ এবং অতিরিক্ত বিল গ্রহণের অভিযোগে এলজিইডির দুই প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গত ২২ সেপ্টেম্বর এলজিইডির পটুয়াখালী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

অভিযুক্ত দুই প্রকৌশলী হলেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার এবং তৎকালীন উপসহকারী প্রকৌশলী ও বর্তমান মির্জাগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (উপজেলা প্রকৌশলীর অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আতিকুর রহমান।

এলজিইডির নথিপত্র ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অগ্রগতি পর্যালোচনায় দুটি উন্নয়ন প্যাকেজে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের তথ্য উঠে এসেছে। 
প্রথম প্যাকেজ (W-35/2023-24) মরিচবুনিয়া চাটুয়া স্লুইস-পূর্ব মরিচবুনিয়া হয়ে উত্তর বিরাজলা কমিউনিটি স্কুল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্বাসন কাজ। এই প্যাকেজে প্রথম ও দ্বিতীয় চলতি বিল বাবদ মোট ৩ কোটি ৫৩ লাখ ১২ হাজার ৫২৭ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত এবং প্রায় ৪৭ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ (কাজ না করেই পরিশোধ) দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় প্যাকেজ (W-36/2023-24) লোহালিয়া ইউপিসি-ভূরিয়া বাজার-ধরান্দি লঞ্চঘাট হয়ে মিয়ারহাট সড়ক (৫.৫০ কিমি) এবং জৈনকাঠি ইউপিসি থেকে ভূরিয়া বাজার হয়ে এম. ধরান্দি কলেজ সড়ক (৭.৪৫ কিমি) পুনর্বাসন কাজ। এই প্যাকেজে প্রথম চলতি বিল বাবদ ৯৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৪ টাকা পরিশোধ করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা অতিরিক্ত এবং প্রায় ৪৪ লাখ টাকার ‘ভূতুড়ে বিল’ দেওয়া হয়েছে।


উভয় প্যাকেজ মিলিয়ে মোট প্রায় ৯১ লাখ টাকার অপ্রয়োজনীয় ও ‘ভূতুড়ে বিল’ পরিশোধ করা হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

মো. আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী সদরে উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন তিনি এই দুই প্যাকেজের কাজ তদারকি ও বিল প্রক্রিয়াকরণের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশ করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বাস্তব কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিলের সুপারিশ করেছিলেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।

মো. খায়রুল বাশারের বিরুদ্ধে সদর উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে তিনি ওই দুটি প্যাকেজের কাজ তদারকি এবং ঠিকাদারের বিল পরিশোধের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। ইচ্ছাকৃত ভুলের মাধ্যমে নিজে ও ঠিকাদারকে আর্থিকভাবে লাভবান করার জন্য তিনি ‘ভূতুড়ে বিল’ প্রদানে ভূমিকা রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নোটিশে পত্র পাওয়ার ৭ কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দিতে এবং বাস্তবে সম্পন্ন না হওয়া কাজের বিপরীতে দেওয়া প্রায় ৯১ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কর্তব্যে অবহেলা ও দুর্নীতির দায়ে কেন তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

এই নোটিশের অনুলিপি এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রশাসন) এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কাল হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে লিখিত জবাব পাঠানো হবে। তবে সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   ঠিকাদার  বিল দেওয়া  সুপারিশ  প্রকৌশলী  শোকজ  পটুয়াখালী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: