আন্তর্জাতিক গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ

সময়ের আলো ডেস্ক

বিবিধ

অনূর্ধ্ব-১৩ বছর বয়সী শিশুদের আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় অনুষ্ঠিত ২৩তম আসরে

2026-10-08T21:02:58+00:00
2026-10-08T21:02:58+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬,
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
বিবিধ
আন্তর্জাতিক গণিত-বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণ
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:০২ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
অনূর্ধ্ব-১৩ বছর বয়সী শিশুদের আন্তর্জাতিক গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে প্রথমবারের মতো স্বর্ণপদক জিতেছে বাংলাদেশ। ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভায় অনুষ্ঠিত ২৩তম আসরে বাংলাদেশের ১৬ প্রতিযোগীর ১৫ জনই পদক পেয়েছে। দেশের ঝুলিতে এসেছে একটি স্বর্ণ, সাতটি রৌপ্য ও সাতটি ব্রোঞ্জপদক।

২৩টি দেশের চার শতাধিক প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থী এবারের অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। বাংলাদেশের প্রথম স্বর্ণপদকটি এসেছে বিজ্ঞান বিভাগে। মানারাত ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসান এ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। বিজ্ঞানের তাত্ত্বিক অংশে সেরা হয়ে সে এই স্বর্ণপদক পায়। বিজ্ঞান বিভাগে অংশ নেওয়া সব প্রতিযোগীর মধ্যে তার স্কোর পঞ্চম সর্বোচ্চ।

তাহমিদ বলে, ‘স্বর্ণপদক পাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই এসেছিলাম। তাত্ত্বিক-২তে কয়েকটি সাধারণ ভুল করে একটু দুশ্চিন্তা ছিল। কিন্তু ব্যবহারিক সেটা পুষিয়ে দিয়েছে। সোনার পদক পেয়ে খুবই ভালো লাগছে।’

ভবিষ্যতে গণিতে আরও ভালো করতে চায় তাহমিদ। বিশ্বের সেরা দশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটিতে পড়ার স্বপ্ন তার। ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে সে বলে, পরীক্ষা, ঘোরাঘুরি ও খাবার—সব মিলিয়ে সময়টা তার জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বিজ্ঞান বিভাগে বাংলাদেশের দল পেয়েছে একটি স্বর্ণ, চারটি রৌপ্য ও দুটি ব্রোঞ্জপদক। পদকজয়ী ১৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ষষ্ঠ। বাংলাদেশের ওপরে রয়েছে সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন।

বিজ্ঞান বিভাগে রৌপ্যপদক পেয়েছে অভিজ্ঞান রায় গল্প, মোহাম্মদ মুশরিফ আলম, রাইয়ান আফরাদ ও আরহাম আবিদ। ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে রাফসান শফিক তালুকদার ও সাহাবী ইবনে কাব্য। দলের সর্বকনিষ্ঠদের মধ্যে মুশরিফ ও রাইয়ান দুজনই চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপর প্রতিযোগী মো. মিফতাহুল ইসলাম মাত্র ১ দশমিক ২৫ নম্বরের ব্যবধানে ব্রোঞ্জপদক পাননি।

গণিতে আটজনের সবাই পদকজয়ী

গণিত বিভাগেও দারুণ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। অংশ নেওয়া আট প্রতিযোগীর প্রত্যেকেই পদক জিতেছে। এ বিভাগে বাংলাদেশ পেয়েছে তিনটি রৌপ্য ও পাঁচটি ব্রোঞ্জপদক।

গণিত দলে সর্বোচ্চ স্কোর করে রৌপ্যপদক জিতেছে অরিজিৎ সাহা। মাত্র কয়েক নম্বরের ব্যবধানে তার স্বর্ণপদক হাতছাড়া হয়েছে। অন্য দুটি রৌপ্যপদক পেয়েছে ইহান আবরাদ রহমান ও মো. সামিন সাইফ।

ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে মো. নাবি হোসেন, আলী ওমর, শারাফ বিন আনোয়ার, মো. শাহিদ মোরসালিন ও ইরতিশ জায়েদ লিয়াম। গণিত দলের আট সদস্যই ঢাকার সেন্ট যোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলের শিক্ষার্থী।

অরিজিৎ বলে, ‘এবার আমার প্রস্তুতি বেশ ভালো ছিল এবং সোনার পদকের প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু সংক্ষিপ্ত ও রচনামূলক—দুটোর কোনোটিই প্রত্যাশামতো হয়নি। যদিও এক্সপ্লোরেশন বেশ ভালো হয়েছিল।’


তাহমিদের মতো অরিজিতেরও আইএমএসওতে এটিই শেষ অংশগ্রহণ। তবে সামনে আরও বড় লক্ষ্য রয়েছে তার। অরিজিৎ জানায়, এখন থেকেই আইজেএসও ও আইএমওর জন্য প্রস্তুতি নিতে চায়। ভবিষ্যতে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করার ইচ্ছা তার।

গত বছর মালয়েশিয়ার কেদাহে অনুষ্ঠিত ২২তম আসরে প্রথমবার অংশ নেয় বাংলাদেশ। সেবার ১২ প্রতিযোগীর সবাই পদক পেয়েছিল। বাংলাদেশ পেয়েছিল দুটি রৌপ্য ও ১০টি ব্রোঞ্জপদক। এবার প্রতিযোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬। একই সঙ্গে এসেছে দেশের প্রথম স্বর্ণপদক এবং রৌপ্যপদকের সংখ্যাও দুই থেকে বেড়ে সাত হয়েছে।

দলের দলনেতা তানভীরুল ইসলাম, বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মীম নাজ রহমান ও গণিতের প্রশিক্ষক সামিরা সুমাইয়া শিক্ষার্থীদের সাফল্যে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিজ্ঞানের প্রশিক্ষক মীম নাজ রহমান বলেন, প্রথমবার অংশ নিয়ে গত বছর রৌপ্যপদক পাওয়াটা ছিল প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। তাই এ বছর লক্ষ্য ছিল স্বর্ণপদক। সে অনুযায়ী গত বছরের শেষ দিক থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়। দল বাছাইয়ের পর আগের চেয়ে বেশি ক্লাস ও মক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

তিনি বলেন, প্রতিযোগীদের একাগ্রতা, অভিভাবকদের পরিশ্রম ও মেন্টরদের সার্বক্ষণিক পরিচর্যার সমন্বয়েই এই সাফল্য এসেছে। আগামী বছর আরও ভালো ফল করার প্রত্যাশা রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গণিত ও বিজ্ঞান প্রতিযোগিতার ২৩তম আসর ২ থেকে ৭ অক্টোবর পশ্চিম জাভায় অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশের কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের (বিডিওএসএন) সভাপতি ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সভাপতি মুনির হাসান বলেন, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে। গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, ইনফরমেটিক্স, বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা নিয়মিত আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব সময় আমাদের শিক্ষার্থীদের অন্য দেশে নিয়ে যাচ্ছি। আমার মনে হয়, এবার আমাদের পরবর্তী ধাপ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। বাংলাদেশকেও একটি বড় আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের আয়োজক হতে হবে।’

মুনির হাসান আরও বলেন, আইএমএসওর মতো আন্তর্জাতিক আয়োজন বাংলাদেশে হলে শুধু দেশের শিক্ষার্থীরাই উপকৃত হবে না; বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিশু, শিক্ষক ও শিক্ষাবিদেরা বাংলাদেশে আসবেন। দেশের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দেশেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, বন্ধুত্ব ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অভিজ্ঞতা পাবে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ গণিত ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজন করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন), বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও ম্যাসল্যাব। এ আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই ছিল পুষ্টি; ম্যাগাজিন পার্টনার কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা। সহযোগিতা করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, টিবিএস গ্র্যাজুয়েট, টেমস একাডেমি, রিফ্লেকটিভ টিনস, শৈশব ও নিত্য উপহার।

সময়ের আলো/এসএকে
  বিষয়:   আন্তর্জাতিক  গণিত  বিজ্ঞান  অলিম্পিয়াড  বাংলাদেশ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: