রংপুর নগরীর চাঞ্চল্যকর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকসহ চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় ডিএনএ পরীক্ষায় বড় অগ্রগতি হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত খেজুর, শসা ও সিগারেটের মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলামতে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডিএনএ প্রোফাইলের সত্যতা মিলেছে। ঢাকায় অবস্থিত পরীক্ষাগার থেকে পাঠানো ডিএনএ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২১ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর দাশপাড়া মাছুয়াপাড়া এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়। একসঙ্গে পরিবারের চার সদস্যকে খুনের এই ঘটনায় পুরো রংপুরজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর থেকেই রহস্য উদ্ঘাটনে মাঠে নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
তদন্তের অংশ হিসেবে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এর মধ্যে সন্দেহজনক কিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সম্প্রতি সেই ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পায় পুলিশ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা খেজুর, শসা এবং সিগারেটের অবশিষ্টাংশের ডিএনএ নমুনার সঙ্গে অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধা দাসের ডিএনএ নমুনার শতভাগ মিল পাওয়া গেছে। এই বৈজ্ঞানিক প্রমাণ অপরাধীদের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণে অত্যন্ত জোরালো ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান জানান, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধারকৃত আলামত ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। পরীক্ষায় কয়েকটি আলামত অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ দাসের ব্যবহৃত বলে শনাক্ত হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং মামলার কার্যক্রমকে প্রভাবিত না করতে এ মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।
পুলিশের বিশ্বাস, এই ডিএনএ প্রতিবেদন এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ একসঙ্গে যুক্ত করে খুব দ্রুতই এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন এবং আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা সম্ভব হবে।
সময়ের আলো/জোই