অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দারুণ এক সিরিজের পর এবার নতুন পরীক্ষায় বাংলাদেশ। আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট দিয়ে শুরু হচ্ছে দুই দলের দ্বিপক্ষীয় লড়াই। প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশন বদলে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া সাফল্য এখন আর ভাবনায় রাখতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। বরং নতুন বাস্তবতায় নতুন পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামতে চান তিনি।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো সিরিজ গেলেও সেটি এখন অতীত। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভিন্ন কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষ অনুযায়ী নিজেদের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
শান্ত বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আমাদের ভালো একটি সিরিজ গেছে। কিন্তু সেটি এখন অতীত। এটি নতুন কন্ডিশন, নতুন প্রতিপক্ষ। তাই আমাদেরও সেভাবেই পরিকল্পনা করতে হবে। এখানকার কন্ডিশন অবশ্যই আলাদা। দলের কয়েকজন ক্রিকেটার একটু আগে এসে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে, যা কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করবে। আমার বিশ্বাস, খেলোয়াড়রা প্রস্তুত এবং তারা কন্ডিশন ও প্রতিপক্ষের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।’
আবুধাবির গরম কন্ডিশন নিয়েও কোনো অজুহাত দিতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। বরং পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই স্বাভাবিক দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন তিনি।
শান্তর ভাষ্যে, ‘আমার মনে হয় প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। কন্ডিশন একটু গরম, এটা থাকবেই। তবে আমরা পেশাদার খেলোয়াড় হিসেবে এটাকে কোনো অজুহাত হিসেবে দেখতে চাই না। আমার মনে হয়, খেলোয়াড়রাও এসব নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছে না। ব্যক্তিগতভাবে আমার রিকভারি ভালো হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ, এখন সুস্থ আছি। গত দুদিন অনুশীলন করেছি এবং ভালো অনুভব করছি।’
আবুধাবির উইকেট নিয়েও আশাবাদী শান্ত। তার ধারণা, উইকেট কিছুটা ধীর হলেও ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হতে পারে। ‘গতকাল উইকেটটা একটু দেখার সুযোগ হয়েছে। আজকে আবার দেখব। দেখে ভালোই মনে হয়েছে। হয়তো কিছুটা ধীর থাকতে পারে। তবে আমার মনে হয় ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো হবে। আশা করছি, খুব ভালো একটি টেস্ট ম্যাচ হবে।’
গত কয়েক বছরে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের উন্নতির কথাও তুলে ধরেছেন শান্ত। তবে উন্নতির জায়গা এখনও অনেক বলে মনে করেন তিনি। ভিন্ন প্রতিপক্ষ ও কন্ডিশনেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘গত কয়েক বছর আমরা বিশেষ করে টেস্টে ভালো ক্রিকেট খেলছি। টেস্ট দল হিসেবে আমরা এটাই করতে চেয়েছি। কীভাবে এই সংস্করণে আরও উন্নতি করা যায়, তা নিয়ে দেশে আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। গত কয়েক বছরে ভালো করেছি, কিন্তু এখনও অনেক জায়গায় উন্নতি করতে হবে। ভিন্ন প্রতিপক্ষ ও ভিন্ন কন্ডিশনে খেলেও আমাদের ধারাবাহিক হতে হবে।’
বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টির জনপ্রিয়তা বাড়লেও টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা স্পষ্ট করেছেন শান্ত। তার কাছে ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণ এখনও বিশেষ কিছু।
শান্ত বলেন, ‘এখনকার সময়ে টেস্ট ক্রিকেটে খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত রাখা কঠিন, কিন্তু আমরা পেশাদার ক্রিকেটার। আমরা যখন বেড়ে উঠেছি, তখন সবাই টেস্ট ক্রিকেট খেলতে চেয়েছি। বেশিরভাগ ক্রিকেটারকেই জিগ্যেস করলে বলবে, তারা টেস্ট খেলতে চায়। টেস্ট ক্রিকেট একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবসময়ই বিশেষ। আমি ব্যক্তিগতভাবে ছোট সংস্করণের চেয়ে আরও বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলতে চাই।’
গত বছর একই ভেন্যুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের। তবে এবার সংস্করণ বদলে যাওয়ায় চ্যালেঞ্জটাও ভিন্ন। দুই দলেরই লক্ষ্য থাকবে জয়ের।
শান্ত বলেন, ‘দুই বোর্ডের মধ্যে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। গত বছর আমরা এখানে সিরিজ খেলেছি। তবে এবার সংস্করণটা ভিন্ন। অনেক দিন পর আমরা টেস্ট ক্রিকেট খেলতে যাচ্ছি। আমরা খুবই রোমাঞ্চিত। আমার বিশ্বাস, দুই দলই এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এবং জিততে চাইবে। বাংলাদেশ দল হিসেবে আমাদের প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। আশা করছি, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব।’
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাফল্যের আত্মবিশ্বাস সঙ্গে থাকলেও সেটিকে পেছনে ফেলেই আবুধাবিতে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। মরুর গরম, ধীর উইকেট আর আফগানিস্তানের চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে শান্তর দল কতটা নিজেদের মেলে ধরতে পারে, সেটিই এখন দেখার।
সময়ের আলো/আতা