সাম্প্রতিক নানা মাত্রিক ও বৈচিত্র্যময় গ্রন্থপাঠে মগ্ন আছি। পাঠ করছি প্রাণজিৎ বসাকের দীর্ঘ কবিতা এবং সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘কবিতাসমগ্র’। স্মরণ করছি এবং পড়ছি আমীরুল ইসলামের ‘ছড়াসংগ্রহ’-এ। ভাষা ও সাহিত্যের বুনিয়াদি ইতিহাসের খোরাক মেটাতে পড়ছি মাসুম খানের ‘বাংলা ভাষার ইতিহাস’। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে নিবিড়ভাবে অনুধাবনের উদ্দেশ্যে তার জীবন ও সৃষ্টির ওপর রচিত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই রয়েছে পাঠতালিকায়— যার মধ্যে রয়েছে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিকথা ‘আমার বন্ধু নজরুল’ এবং অচিন্ত্যকুমার সেনগুপ্তের নজরুলকেন্দ্রিক উপন্যাস ‘জৈষ্ঠ্যের ঝড়’।
আধ্যত্মিক ও লোকায়ত সাহিত্যের ধারায় নতুন দৃষ্টিতে আবার পাঠ করছি তারকচন্দ্র সরকারের ‘শ্রীশ্রী হরিলীলামৃত’। শতবর্ষ প্রাচীন এই গ্রন্থ এর আগেও পাঁচবার পড়েছি। আবার নতুন করে পড়ছি। যেহেতু এটি মহাকাব্য, তাই প্রতি পাঠেই নতুন রূপে পাই তাকে। ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে পড়ছি আবুল আহসান চৌধুরী আবিষ্কৃত ও সম্পাদিত ‘শিখা’র সংকলন এবং রবীন্দ্রনাথের নিজ হস্তাক্ষরে লিখিত লালনের গানের খাতা।
একই সঙ্গে লোকসংস্কৃতি ও সাহিত্য সংগ্রাহক আবুল আহসান চৌধুরীর লেখা ও সম্পাদিত, আমার পূর্বে পড়া অন্তত ২০টি আকর গ্রন্থ নতুন করে পরখ করে দেখছি। এ ছাড়া শিশু-কিশোর সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি বিচারে পুনরাবলোকন করছি দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদারের উপন্যাস ‘কিশোরমন’। তাকে তো সবাই চিরায়ত গল্পের সংকলক এবং পুনর্কথক হিসেবেই জানে, তিনি যে গল্প-উপন্যস লিখেছেন, সেটি জানার আগ্রহেই এই পাঠ।
পঠন-পাঠনের পাশাপাশি নিজের লেখালেখি ও সম্পাদনার কাজও এগিয়ে চলছে পুরোদমে।