দুর্গাপূজায় রংপুরের বিনোদনকেন্দ্রে সম্প্রীতির মিলনমেলা

সাইফুল ইসলাম, রংপুর ব্যুরো

সারাদেশ

শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের রঙে সাজছে রংপুর। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুত হচ্ছে নগরী ও

2026-10-09T17:04:53+00:00
2026-10-09T17:04:53+00:00
 
  শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬,
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
দুর্গাপূজায় রংপুরের বিনোদনকেন্দ্রে সম্প্রীতির মিলনমেলা
সাইফুল ইসলাম, রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৪ পিএম 
দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুত হচ্ছে নগরী ও আশপাশের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ছবি : সময়ের আলো
শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে উৎসবের রঙে সাজছে রংপুর। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা নির্মাণ ও সাজসজ্জার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুত হচ্ছে নগরী ও আশপাশের বিনোদনকেন্দ্রগুলো। পূজার ছুটিতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে এসব স্থানে দর্শনার্থীদের সমাগম বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধর্মীয় উৎসবের আবহে বিনোদনকেন্দ্রগুলোও হয়ে উঠতে পারে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মিলনমেলার কেন্দ্র।

আগামী ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত শারদীয় দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে রংপুর নগরী ও আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলোতে দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানা, তাজহাট জমিদারবাড়ি ও জাদুঘর, প্রয়াস সেনাপার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক ও ভিন্নজগতসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ঘিরে মানুষের আগ্রহ রয়েছে। নগরীর বাইরে পীরগঞ্জের আনন্দনগর, বদরগঞ্জের মায়াভুবন, কাউনিয়ার তিস্তা পার্ক এবং গঙ্গাচড়ার মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু এলাকাও হতে পারে অবসর কাটানোর আকর্ষণীয় গন্তব্য।

শিশু-কিশোরদের আনন্দ, পরিবারের মিলনমেলা

পূজার ছুটি মানেই কর্মব্যস্ততা থেকে সাময়িক বিরতি। এ সময় পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে ঘুরতে বের হন অনেক অভিভাবক। চিড়িয়াখানায় পশুপাখি দেখা, পার্কের বিভিন্ন রাইডে চড়া, ঐতিহাসিক স্থাপনা ঘুরে দেখা কিংবা নদীর তীরে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে বিনোদনের নানা সুযোগ রয়েছে রংপুরে।

রংপুর বিনোদন উদ্যান ও চিড়িয়াখানা শিশু-কিশোরদের অন্যতম আকর্ষণ। সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি দেখার পাশাপাশি শিশুপার্কে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, তাজহাট জমিদারবাড়ির ঐতিহাসিক স্থাপত্য ও জাদুঘর দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরে রংপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। চিকলি, প্রয়াস সেনাপার্ক ও ভিন্নজগতের মতো বিনোদনকেন্দ্রেও পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘোরার সুযোগ রয়েছে।

বিনোদনকেন্দ্রের পাশাপাশি প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটাতেও অনেকে ছুটবেন তিস্তা নদীর তীরে। কাউনিয়ার শতবর্ষী রেলওয়ে সেতু, পাশের সড়ক সেতু এবং গঙ্গাচড়ার মহিপুর সেতু এলাকার নদী ও বালুচর দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে। তবে নদীতে নৌভ্রমণ কিংবা বালুচরে ঘোরাঘুরির ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা জরুরি।

নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব

দুর্গাপূজা উপলক্ষে রংপুর মহানগরীতে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির নেতাদের মতবিনিময় হয়েছে। এ ছাড়া কাউনিয়ায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি বিনোদনকেন্দ্রগুলোর ব্যবস্থাপনাতেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিনোদনকেন্দ্র ও দর্শনীয় স্থানগুলোতে সম্ভাব্য দর্শনার্থীর চাপ সামলানোও জরুরি। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ সচল রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পার্কিং, আলোর ব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রস্তুতি থাকলে দর্শনার্থীরা স্বস্তিতে সময় কাটাতে পারবেন।

বিশেষ করে চিড়িয়াখানা ও বিভিন্ন পার্কে শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। নদীতীরবর্তী এলাকায় নৌযানের নিরাপত্তা, লাইফ জ্যাকেটের ব্যবহার এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চলাচল নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি বিনোদনকেন্দ্রগুলোর পরিচ্ছন্নতা, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি।

সম্প্রীতির বন্ধনে রংপুর

দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে। পূজামণ্ডপের পাশাপাশি বিনোদনকেন্দ্রগুলোতেও বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

রংপুরের বিনোদনকেন্দ্রগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা, দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উৎসবের সময় টিকিটের অতিরিক্ত চাপ, অস্বাভাবিক মূল্য আদায়, পার্কিং সংকট কিংবা যানজট যেন মানুষের আনন্দে বিঘ্ন না ঘটায়, সে বিষয়েও নজরদারি থাকা দরকার।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা গেলে দুর্গাপূজার ছুটিতে রংপুরের বিনোদনকেন্দ্রগুলো স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি আশপাশের জেলার দর্শনার্থীদেরও আকৃষ্ট করতে পারে। এতে স্থানীয় পর্যটন, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও সেবামূলক কার্যক্রমেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে রংপুরের বিনোদনকেন্দ্রগুলোকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা। ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে অবসর এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য—সবকিছুর সমন্বয়ে এসব স্থান হয়ে উঠতে পারে মানুষের মিলনমেলা। সম্প্রীতি, নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ুক পুরো রংপুরে।

সময়ের আলো/এনএন
  বিষয়:   দুর্গাপূজা  রংপুর  বিনোদনকেন্দ্র  রংপুর চিড়িয়াখানা  নিরাপত্তা  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: