কুমিল্লায় কিশোরী জান্নাতুল তাজমিন (১৪) হত্যার রহস্য উদঘাটনের করার দাবি করেছে পুলিশ। এই বিষয়ে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় ডাকা এক সংবাদ সম্মেলন বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে সুমন নামের এক অটোরিকশাচালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নিহতের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট পরীক্ষা করে এই ঘটনার সাথে আরও একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এখনই সবকিছু প্রকাশ করতে চাচ্ছে না।
পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সংবাদ মাধ্যমকে জানান, হত্যাকাণ্ডের আসল কারণ বা মোটিভ প্রায় পরিষ্কার। গ্রেফতার অটোরিকশাচালক সুমন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং তাজমিনের মোবাইলের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ করেও অনেকের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তবে বাকি সব বিস্তারিত তথ্য শনিবার সকালেই সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানখেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন নামের ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত তাজমিন যশোরের সদর উপজেলার ছাতিয়াতলা গ্রামের আব্দুল আলিমের মেয়ে এবং কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তন স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে সে আর স্কুলে যেত না। তার বাবা আব্দুল আলিম রেনেটা ফার্মাসিউটিক্যালসে কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন এবং পরিবার নিয়ে কুমিল্লা শহরের রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ৪ অক্টোবর সকালে এক বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাসা থেকে বের হয়। এরপর গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে শেষবার কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি বার্তা পাঠানো হয়। তবে বাবা গভীর রাতে ঘুমিয়ে থাকায় সেই বার্তাটি দেখতে পাননি। পরদিন সকালে পুলিশ অজ্ঞাত হিসেবে তার মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। মরদেহের পাশেই একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করেছিল পুলিশ। এই ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।
সময়ের আলো/আতা