চড়া বাজারে খাদ্য কেনায় ফর্দ কাটছাঁট মধ্যবিত্তের

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন

2026-10-10T02:28:17+00:00
2026-10-10T02:28:17+00:00
 
  রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬,
২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
অর্থনীতি
চড়া বাজারে খাদ্য কেনায় ফর্দ কাটছাঁট মধ্যবিত্তের
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:২৮ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। সপ্তাহের ব্যবধানে আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও আলুর দাম বেড়েছে। অন্যদিকে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম। চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের মতো কিছু পণ্যের দাম আগের সপ্তাহের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও সব মিলিয়ে সংসারের খরচ কমাতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম বেড়েছে : রাজধানীর শনিরআখড়া ও রায়েরবাগ বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। শুক্রবার এসব বাজারে প্রতি কেজি আদা ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিন আগেও পণ্যটির দাম ছিল ৯৫ থেকে ১০০ টাকা। বড় আকারের রসুনের দাম বেড়ে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকা হয়েছে। ছোট রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়।

দেশি পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। মানভেদে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৮ থেকে ৫২ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা। অন্যদিকে লাল ও সাদা আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দামও কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে।

চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি : সবজির বাজারেও ক্রেতাদের বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি টমেটো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং শিম ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুনের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ১২০ টাকা। ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ৭০ টাকা এবং মুলা প্রতি কেজি ৭০ টাকায়।

এ ছাড়া করলা, বরবটি, ঢ্যাঁড়শ, পটোল ও কাঁকরোলের মতো সবজি কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে পেঁপে, যার দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০ টাকা। লাউয়ের আকারভেদে প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়।

তবে কাঁচামরিচের দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচের দাম ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মাছ কিনতেও বাড়তি খরচ : মাছের বাজারে প্রজাতি, আকার ও মানভেদে দামের পার্থক্য রয়েছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ এবং রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া পাবদা মাছের কেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ এবং ট্যাংরা প্রায় ৭০০ টাকা। চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। বড় বোয়াল কিনতে ক্রেতাকে কেজিপ্রতি প্রায় ১ হাজার টাকা খরচ করতে হয়। দেশি কই, শোল ও বাইমের মতো মাছের দামও তুলনামূলক বেশি।

বাজার সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মাছের আকার, সরবরাহ এবং জীবিত না মৃত— এসব বিষয়ের ওপর দাম নির্ভর করে। ফলে বাজারভেদে একই মাছের দামের মধ্যেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

ডিম-মুরগির দামেও স্বস্তি নেই : ডিম ও মুরগির বাজারেও দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে রয়েছে। যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজারে ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৬ এবং সাদা ডিম ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগির দাম আকারভেদে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগি ৩২০ এবং হাইব্রিড সোনালি ২৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া গরুর মাংস প্রতি কেজি ৭৫০ থেকে ৮০০ এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত মাছ-মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়ছে।


চাল-ডাল-তেলে মিশ্র চিত্র : চাল, ডাল ও ভোজ্য তেলের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন না থাকলেও পণ্যগুলোর দামে বৈচিত্র্য রয়েছে। বাজারে বিআর-২৮ চাল প্রতি কেজি ৪৭ থেকে ৪৮ টাকা, মিনিকেট ৬৮ থেকে ৬৯ এবং নাজিরশাইল ৮৪ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিনিগুঁড়া চালের দাম কেজিপ্রতি ১৯০ থেকে ২১০ টাকা।

দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ থেকে ১৮০ এবং ভারতীয় মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। ছোলার দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকা। পাঁচ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। তবে বাজারে তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকার অভিযোগও রয়েছে।

কেনাকাটায় কাটছাঁট করছেন ক্রেতারা : বাজারে পণ্যের দাম বাড়ায় ক্রেতারা কেনাকাটার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তাদের ভাষ্য, দাম বাড়লে ক্রেতারা প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কেনেন, ফলে বিক্রিও কমে যায়। বিশেষ করে মাছ, মাংস ও মসলাজাতীয় পণ্যের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। ফলে সংসারের হিসাব মেলাতে সঞ্চয় কমানো কিংবা কেনাকাটায় ফর্দ কাটছাঁট করতে হচ্ছে।

তাদের মতে, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, নিয়মিত তদারকি এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে
  বিষয়:   চড়া বাজার  খাদ্য  মধ্যবিত্ত  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: