কালো গায়ের রঙের কারণে একসময় বিচারকদের কক্ষে প্রবেশের অনুমতি পেতেন না নভি পিল্লাই। সেই বৈষম্য পেরিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি হন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভূত আফ্রিকান আইনজীবী।
১৯৪১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্মগ্রহণ করেন নাভানেথেম পিল্লাই, যিনি নভি পিল্লাই নামে পরিচিত। তার পূর্বপুরুষদের শিকড় ভারতের তামিলনাড়ুতে। সাত ভাইবোনের মধ্যে বেড়ে ওঠা পিল্লাইয়ের বাবা ছিলেন বাসচালক। বর্ণবৈষম্যপূর্ণ পরিবেশে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতা তাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অনুপ্রাণিত করে।
পিল্লাই নাটাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৩ সালে স্নাতক এবং ১৯৬৫ সালে আইনে ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে উচ্চতর ডিগ্রি ও ১৯৮৮ সালে ডক্টরেট অর্জন করেন। ১৯৬৭ সালে নাটাল অঞ্চলে প্রথম নারী হিসেবে নিজের আইনজীবীর চেম্বার প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন পিল্লাই। ১৯৯৫ সালে রুয়ান্ডার জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন। ১৯৯৯ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দুই দফায় ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। রুয়ান্ডার গণহত্যা মামলায় যৌন সহিংসতাকে গণহত্যার অপরাধ হিসেবে বিবেচনার ক্ষেত্রে তাঁর বিচারিক ভূমিকা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারপতি নির্বাচিত হন তিনি। পরে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় বৈষম্য দূর করা, মানবাধিকার রক্ষা এবং গুরুতর অপরাধের জন্য দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার পক্ষে কাজ করেন তিনি।
সময়ের আলো/এমকে