ফিলিস্তিনে প্রায় দুই দশক পর অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচন আবারও পিছিয়ে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১১ সেপ্টেম্বর সংসদ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচন একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে আগামী ২৮ নভেম্বর সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
শনিবার (১০ অক্টোবর) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এক ডিক্রির মাধ্যমে নির্বাচনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছেন ৯০ বছর বয়সী মাহমুদ আব্বাস। এর আগে ২০২৭ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
নির্বাচন পেছানোর আগে ফিলিস্তিনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের একটি কমিটি বৈঠক করে। পরে আব্বাসের নেতৃত্বাধীন প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) নির্বাহী কমিটি জানায়, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেম, পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার বর্তমান পরিস্থিতি নির্বাচনের অনুকূলে নেই।
ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় নির্বাচনী সরঞ্জাম ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, বসতি সম্প্রসারণ ও বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতাও অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ ছাড়া ফিলিস্তিনিদের কর রাজস্ব আটকে রাখা এবং প্রার্থী ও পর্যবেক্ষকদের চলাচলে বিধিনিষেধের বিষয়টিও নির্বাচন পেছানোর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমে অগ্রগতি না হওয়া এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েনের উদ্যোগ এগিয়ে না যাওয়াও সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে।
তবে নির্বাচন পেছানোর ফলে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের গ্রহণযোগ্যতা আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার সুযোগও পিছিয়ে গেল।
ফিলিস্তিনে সর্বশেষ সংসদ নির্বাচন হয়েছিল ২০০৬ সালে। ওই নির্বাচনে ফাতাহকে হারিয়ে জয়ী হয় হামাস। আর ২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন মাহমুদ আব্বাস। তাঁর মেয়াদ ২০০৯ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এরপর থেকে তিনি ডিক্রির মাধ্যমে শাসন পরিচালনা করছেন।
সূত্র : আল জাজিরা
সময়ের আলো/এমকে