সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে প্রায় দুই দশক আগে পাড়ি জমিয়েছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে। প্রবাসের কর্মব্যস্ত জীবনে ঘাম ঝরিয়ে গড়ে তুলেছিলেন পরিবারের স্বপ্ন। দেশে রেখে যাওয়া দুই কন্যার মুখে হাসি ফোটানো আর পরিবারের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু একটি অগ্নিকাণ্ডের ধোঁয়া কেড়ে নিল সেই স্বপ্নের কারিগরের প্রাণ।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহে ঘুমন্ত অবস্থায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে রাউজানের প্রবাসী মোহাম্মদ আবু জাহেদের (৪৮)। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বাবাকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ১০ ও ৩ বছর বয়সি দুই কন্যাসন্তান।
জানা গেছে, আবু জাহেদের পাশের কক্ষে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। সেখানকার ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। পরদিন আজ রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
নিহত আবু জাহেদ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ডাবুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর হিংগলা গ্রামের মফজল ডাক্তার বাড়ির বাসিন্দা। তিনি ওই বাড়ির মৃত মোহাম্মদ এজাহার মিয়ার ছেলে। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে আবু জাহেদ ছিলেন সবার বড়। রাউজান কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে ২০০৩ সালে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাড়ি জমান তিনি। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করতেন। পাশাপাশি রাউজান উপজেলা সদরের ফকিরহাট বাজারেও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
প্রবাসজীবনে আবু জাহেদ দুবাইয়ের নাইফ রোড এলাকায় বসবাস করতেন। একপর্যায়ে আবির মার্কেট এলাকায় ব্যবসা করার চেষ্টা করেন। পরে দুবাইয়ের সিলিকন ওয়েসিস এলাকার একটি সুপার মার্কেটে চাকরি নেন। পরবর্তী সময়ে জীবিকার প্রয়োজনে তিনি আজমান চলে যান। দীর্ঘ প্রবাসজীবনে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেছেন তিনি।
নিহতের মরদেহ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্থানীয় একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
সময়ের আলো/আতা