ভারতের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে মোদি সরকার যুদ্ধ শুরু করেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতারা। পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এ খবর জানিয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) মুক্তি পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদি ভারতের জন্য এক চরম লজ্জার বিষয়। এই দেশ এর আগে কখনো এত বড় কাপুরুষ ও অত্যাচারী শাসক দেখেনি।
একই দিন বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে দিল্লিকে ‘যুদ্ধক্ষেত্রে’ পরিণত করার অভিযোগ তুলে পুলিশ ও সরকারের সমালোচনা করেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তাদের ভাষ্য, এই লড়াই এখন আর শুধু প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে নয়; এটি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধেও।
সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস বলেন, রাষ্ট্র তার নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে। দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, আর এটি স্পষ্টতই একজনকে বাঁচানোর জন্য করা হচ্ছে। আমরা মোদি ও শাহকে জিজ্ঞেস করতে চাই, আপনারা কেন জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?
বিক্ষোভকারীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে বিজেপির মুখপাত্র গৌরব ভাটিয়া বলেছিলেন, মৃত ও অবৈধ ভোটারদের বাদ দিতে নিয়ম মেনেই ভোটার তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও অস্বীকার করেন তিনি।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলোর দাবি, কয়েকটি রাজ্যে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার উদ্দেশ্যে স্বেচ্ছাচারীভাবে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনেও বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার আপত্তি জানালেও প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তা আমলে নেননি।
এরপর বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’, সিজেপি এবং বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো একসঙ্গে রাজপথে নামে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে তাদের আন্দোলন দমনে মোদি সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সিজেপির বিক্ষোভ ঠেকাতে তিন হাজারের বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। পরে অবশ্য আটক সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
সময়ের আলো/ইউএমএইচ