‘আপনারা কি ব্যাটে-বলে ভালো লড়াই দেখতে চান না?’ কিছুদিন আগে দুবার এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন গৌতম গম্ভীর। প্রশ্নের কারণও বেশ সহজ। বর্তমানে ক্রিকেট যেন আর বোলারদের নেই, রাজত্ব শুধুই ব্যাটারদের!
কিছুদিন আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৪৯ রান করেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হেরেছিল ভারত। তখনই এই প্রশ্ন তুলেছিলেন গম্ভীর। একই সিরিজে ওয়ানডে ম্যাচে ক্যারিবীয়রা ৪০৫ রান করার পরও ভারতের কাছে ৮ উইকেটে হেরে যায়, তাও ৩৯ বল বাকি থাকতে! সেই ম্যাচেও একই বক্তব্য দিয়েছিলেন ভারতের কোচ।
মূলত এটাই এখনকার ক্রিকেটের বাস্তব চিত্র। দর্শকদের বিনোদনের কথা মাথায় রেখে আয়োজকেরা এমন পিচ তৈরি করেন, যেখানে সুবিধা পান ব্যাটাররাই। ফলে বড় সংগ্রহ গড়েও জয় নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। ক্রিকেটে এখন যেন হাই-স্কোরিং ম্যাচেরই আধিপত্য!
নব্বইয়ের দশকে ওয়ানডেতে ২০০ রান করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট হতে পারত। অথচ এখন টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রান করেও নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। এর অন্যতম কারণ ব্যাটিং-বান্ধব পিচ। ফলে ভালো বোলারদের জন্যও প্রতিপক্ষকে আটকে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
প্রথম ইনিংসে যত রানই হোক, ব্যাটিংয়ের অনুকূল পরিবেশে দ্বিতীয় ইনিংসে সেই লক্ষ্য তাড়া করা অনেক সহজ হয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২১৫ রানের বেশি লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করা হয়েছে ১৯ বার। এর মধ্যে গত তিন বছরেই এমন ঘটনা ঘটেছে ১২ বার!
ওয়ানডে ক্রিকেটে ৩৫০ রানের লক্ষ্য সফলভাবে তাড়া করা হয়েছে ১৬ বার। ২০১৯ সাল থেকে এই সংখ্যা ১০ বার!
এটা পরিষ্কার, গত এক দশকে ক্রিকেট অনেক বদলেছে, আর এর বড় সুবিধা পেয়েছেন ব্যাটাররা। একসময় বোলাররা যেভাবে আলোচনায় থাকতেন, নিজেদের পারফরম্যান্সে যেভাবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতেন, বর্তমানে সেই দৃশ্য খুব একটা দেখা যায় না। প্রশ্ন উঠছে, ব্যাটারদের এই দাপটের যুগে বোলারদের জন্য কি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে ক্রিকেট?
সময়ের আলো/জেডআই