গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হামজনিত জটিলতায় সংকটাপন্ন শিশু মাজহারুল। সন্তানের চিকিৎসা করাতে গিয়ে শেষ সম্বল ভিটেবাড়ি ছাড়া সব কিছুই হারিয়েছেন তার বাবা-মা। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন আরও অর্থ। কিন্তু নিঃস্ব পরিবারের পক্ষে সেই ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সন্তানকে বাঁচাতে সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েছেন অসহায় বাবা-মা।
শিশু মাজহারুলের (১০মাস) বাড়ি উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের বিলবাড়িয়া এলাকায়।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, মাজহারুলের জীবন বাঁচাতে প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন তার মা-বাবা মঞ্জ সিকদার ও মদিনা। জন্মের তিন মাস পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে শিশুটি। প্রথমে ঠান্ডা, এরপর শরীর জুড়ে দেখা দেয় গুটি। উদ্বিগ্ন পরিবার শিশুটিকে ভর্তি করে মির্জাপুরের কুমুদিনী হাসপাতালে। সেখানে এক মাস চিকিৎসার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় তাকে পাঠানো হয় গাজীপুরের কেপিজে হাসপাতালে। সেখানে ২৬ দিন চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর হামজনিত জটিলতা শনাক্ত হয়। আক্রান্ত হয় শিশুটির ফুসফুস ও শ্বাসনালি। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় দুই মাস পিআইসিইউতে চিকিৎসা চলে। তবুও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি মাজহারুল।
সন্তানের চিকিৎসার জন্য জমি-জমা ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করেছেন তারা। ধারদেনা ও সঞ্চয় মিলিয়ে চিকিৎসায় ব্যয় করেছেন প্রায় ১৩ লাখ টাকা। বর্তমানে অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে শিশুটিকে বাড়িতে নিয়ে এসেছেন তারা। এখন অক্সিজেনের সহায়তায় বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে ছোট্ট মাজহারুলকে। প্রতি মাসে চিকিৎসা ও পরিচর্যায় ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা। কিন্তু আয়ের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে এই ব্যয় মেটানো পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
সন্তানকে সুস্থ করে তোলার স্বপ্ন থাকলেও অর্থের অভাবে আজ দিশেহারা পরিবারটি। ভিটেবাড়ি ছাড়া আর কোনো সম্বল নেই তাদের। তাই মাজহারুলের উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকার, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সহৃদয় মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
কালিয়াকৈর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি খোঁজ নিয়েছি এবং আমাদের মাঠ কর্মীকে বলেছি পরিবারটির খোঁজ নিতে। যদি পরিবার আবেদন করে, তাহলে অবশ্যই আর্থিক সহযোগিতা করা হবে।’
শিশুটির বাবা মঞ্জ সিকাদারের বিকাশ নাম্বার- ০১৭৯৮৩৩৯২৫৬
সময়ের আলো/মহু