সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছরের শিশুর গর্ভধারণের অভিযোগে দুই ছাত্রসহ তাদের শ্রেণিশিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শ্যামনগর পৌরসদরের গোমানতলী গ্রামের ভুক্তোভোগী শিশুর নানি বাদি হয়ে সোমবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে শ্যামনগর থানায় মামলাটি করেছেন।
গণধর্ষণ ও সাইবার আইনে দায়েরকৃত মামলায় গোমানতলী গ্রামের হযরত আলী (১৭), তার বন্ধু আবু হাসান (১৫) ও শিক্ষক নুর আলম (৩৬) কে আসামি করা হয়েছে।
ঘটনার শিকার শিশুসহ অভিযুক্ত ৩ জনই পৌরসদরের গোমানতলী কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক। শিশুটির পিতার বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সুড়িপাড়া গ্রামে। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সে নানির বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে। তার মা সৌদি প্রবাসী। শিশুটির অস্বাভাবিক শাররীক পরিবর্তন লক্ষ্য করে শুক্রবার চিকিৎসকের দারস্থ হওয়ার পর রোববার তার পরিবার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
মামলার বাদির ভাষ্য, সম্প্রতি তার ভাইয়ের পুত্রবধূ শিশুটির অস্বাভাবিক শারিরীক পরিবর্তনের বিষয়টি লক্ষ্য করে। দুদিন আগে ডাক্তারি পরীক্ষার পর তার নাতনি ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা।
এদিকে, শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ‘গা ঢাকা’ দিয়েছে অভিযুক্তরা।
বাদীর অভিযোগ, হামিদ সরদারের ছেলে হযরত ও শাহাজান সরদারের ছেলে আবু হাসান গোসলের পর কাপড় পরিবর্তনের মুহুর্তে তার নাতনির নগ্ন ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে ঐ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। একপর্যায়ে প্রাইভেট পড়ানোর সুযোগে শিক্ষক নুর আলমও শিশুটিকে ধর্ষণ করে।
ঘটনার শিকার শিশুর দাবি, সমবয়সী হওয়ায় হযরত ও আবু হাসান তার ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাড়িতে আসত। গোপনে ধারণ করা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে হযরত ও আবু হাসান দীর্ঘদিন ধরে তাকে ধর্ষণ করে আসছিল। তিন-চার সপ্তাহ আগে প্রাাইভেট পড়তে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর শিক্ষক নুর আলমও তাকে ধর্ষণ করে।
অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সবার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রী মোবাইল রিসিভ করলেও কোনো কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। তবে, গোমানতলী কামিল মাদরাসার সুপার মাওলানা সিরাজুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্তে টিম গঠন করা হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাফিউল ইসলাম জানান, শিশুটির নানি বাদি হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। বিষয়টি লোক জানাজানি হওয়ায় অভিযুক্তরা ‘গা ঢাকা’ দিয়েছে। এ ব্যাপারে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
সময়ের আলো/মহু