বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের রহস্যময় ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ‘চোরের মন পুলিশ-পুলিশ। সাধু সাবধান।’ দুই লাইনের এই পোস্টটি মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই পোস্টটির ইঙ্গিত ও উদ্দেশ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। কী কারণে এমন পোস্ট দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা, তা জানতে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের সঙ্গে যোগাযোগ করে সময় সংবাদ।
যুক্তরাজ্যপ্রবাসী রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ ওয়ালিউদ্দীন তানভীর বলেন, জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নিশ্চয়ই কোনো একটি বিষয়কে ইঙ্গিত করেই ফেসবুকে রহস্যজনক পোস্টটি দিয়েছেন।
তিনি ধারণা করেন, রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা এক হতে পারে বলে যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, তার বিপরীতে মন্তব্য হিসেবেই পোস্টটি দিয়ে থাকতে পারেন ডা. শফিকুর রহমান।
এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল পদমর্যাদার দুজন নেতা এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একজন সদস্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যে দলটি অভ্যুত্থানে হাজারো সাধারণ মানুষকে হত্যার সঙ্গে জড়িত এবং জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের হত্যা করেছে, সেই দলটির সঙ্গে জামায়াতের এক হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের বিপরীতে বিরোধীদলীয় নেতা ফেসবুক স্ট্যাটাসটি দিয়েছেন বলে ধারণা তাদের।
জামায়াতের এই তিন নেতা আরও বলেন, দলটি কখনো কোনো অপরাধীর সঙ্গে হাত মেলায়নি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বারবার দাবি করেছেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে তাদের নেতাকর্মীরা বিএনপিকে সহযোগিতা করেছেন। আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন দাবির বিপরীতে বিএনপির কেউ কখনো মন্তব্য করেননি বলে জানান তারা।
তাদের ধারণা, এ বিষয়টি উল্লেখ করেও জামায়াত আমির ফেসবুক পোস্টটি দিয়ে থাকতে পারেন। তাদের মতে, আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবির বিষয়ে বিএনপির নীরবতা থেকে বোঝা যায়, বিএনপি নিজেরাই পতিত স্বৈরাচারের সঙ্গে মিলিত হয়ে আছে।
রাজনৈতিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে অচিরেই ‘স্বৈরাচার’ ও ‘গুপ্ত’রা একসঙ্গে হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় দলের সংসদ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ থেকে রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে দলের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ করে এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে সংগঠনকে শক্তিশালী রাখার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। রোববার সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সভাকক্ষে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। সভায় উপস্থিত একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ