পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমিক কল্যাণ ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের ১২টি উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হবে। ১৮ ও ১৯ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠেয় বাটেক্সপো ২০২৬-এ চারটি ক্যাটাগরিতে এসব উদ্যোগকে দেওয়া হবে সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ (টিএসএল) অ্যাওয়ার্ড। এর মাধ্যমে পোশাক শিল্পে টেকসই উৎপাদনব্যবস্থা, পরিবেশ সুরক্ষা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাটেক্সপোর রজতজয়ন্তী সংস্করণে পুরস্কারটি অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) অনুষ্ঠেয় এই আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত রয়েছে পিডিএস লিমিটেড।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ), জার্মানির আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা জিআইজেডের স্টাইল-২ (এসটিআইএলই-২) প্রকল্পের মাধ্যমে এবং জার্মানির অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় এ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ।
পুরস্কারের চারটি ক্যাটাগরি হলো— পিপল ফার্স্ট, প্ল্যানেট পজিটিভ, নেক্সট ফ্রন্টিয়ার এবং রাইজিং স্ট্রেন্থ। শ্রমিক কল্যাণ, মডেল ফ্যাক্টরি, নারী নেতৃত্ব ও কমিউনিটিতে অবদানের পাশাপাশি পরিবেশগত টেকসই উদ্যোগ, পানি ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য টেক্সটাইল, ব্যবসায়িক উদ্ভাবন এবং শ্রমিককেন্দ্রিক প্রযুক্তিগত উদ্যোগকে এ পুরস্কারের আওতায় আনা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার দায়িত্বশীল উৎপাদন ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমের স্বীকৃতির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিজয়ীদের প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার— এই তিন স্তরে সম্মাননা দেওয়া হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বৈশ্বিক পোশাক শিল্পের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের কারখানাগুলো সবুজায়ন ও উদ্ভাবনে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।
সাসটেইনেবিলিটি লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে দূরদর্শী উদ্যোক্তা ও কারখানাগুলোর অবদান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এতে সামগ্রিক পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
জিআইজেড বাংলাদেশের ‘সাসটেইনেবিলিটি ইন দ্য টেক্সটাইল অ্যান্ড লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ’ প্রকল্পের প্রজেক্ট ম্যানেজার ড. মাইকেল ক্লোড বলেন, বিজিএমইএর সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারিত্বের ধারাবাহিকতায় বাটেক্সপো ২০২৬-এর এই পুরস্কারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে তারা আনন্দিত। পরিবেশগত টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক দায়বদ্ধতা ও পরিবেশ, সামাজিক বিষয় এবং সুশাসন সংক্রান্ত (ইএসজি) ক্ষেত্রে নেতৃত্ব ও উদ্ভাবন দেখানো কারখানাগুলোকে এ উদ্যোগের মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। এই পুরস্কার পোশাক শিল্পে টেকসই চর্চার বিস্তার এবং বাংলাদেশের শিল্প খাতকে আরও দায়িত্বশীল ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য টেকসই উৎপাদন কোনো বিলাসিতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকার শর্ত। দেশের বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা এই শিল্পকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার নতুন বাস্তবতায় এগিয়ে নিতে মানুষ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্বশীলতা গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, টেকসই উৎপাদনে নেতৃত্ব দেওয়া কারখানাগুলো বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বর্তমান বৈশ্বিক পোশাকবাজারে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, কার্বন নিঃসরণ কমানো, পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার, বর্জ্য পুনর্ব্যবহার এবং জ্বালানিসাশ্রয়ী উৎপাদনব্যবস্থা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ধরনের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে পরিবেশগত ও সামাজিক দায়িত্বশীলতার চর্চা আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, টিএসএল অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন বা মনোনয়ন জমা দিতে আগ্রহী কারখানাগুলোকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য দেখতে হবে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কারখানাগুলোকে আবেদন ও মনোনয়ন জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচও