তেঁতুলিয়ার আকাশে ধরা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

সারাদেশ

ভোরের আকাশ তখনো ধূসর। মহানন্দা নদীর তীরে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোর বারান্দায় এবং নদীর পাড়ে অপেক্ষমাণ শত শত চোখ। সবার দৃষ্টি উত্তরের

2026-10-13T12:00:36+00:00
2026-10-13T12:03:17+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
রূপালি চূড়ায় সোনালি আভা
তেঁতুলিয়ার আকাশে ধরা দিল কাঞ্চনজঙ্ঘা
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০০ পিএম  আপডেট: ১৩.১০.২০২৬ ১২:০৩ পিএম
তেঁতুলিয়া থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। ছবি : সময়ের আলো
ভোরের আকাশ তখনো ধূসর। মহানন্দা নদীর তীরে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলোর বারান্দায় এবং নদীর পাড়ে অপেক্ষমাণ শত শত চোখ। সবার দৃষ্টি উত্তরের দিগন্তে। কুয়াশা ও মেঘের পর্দা সরিয়ে ঠিক ভোর ৬টায় যখন কাঞ্চনজঙ্ঘা তার তুষারশুভ্র অবয়ব নিয়ে জেগে উঠল, তখন চারদিকে যেন অপার্থিব নিস্তব্ধতা নেমে এল। সূর্যের প্রথম রশ্মি যখন পাহাড়ের গায়ে আছড়ে পড়ল, শুভ্র সাদা পাহাড় মুহূর্তেই হয়ে উঠল ঝকঝকে সোনালি। এ যেন প্রকৃতির এক জীবন্ত ক্যানভাস, যেখানে রঙ বদলানোর খেলায় মেতেছে হিমালয়।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল থেকেই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে দেখা মিলছে বিশ্বের তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। শরতের মেঘমুক্ত আকাশে পাহাড়ের এই মায়াবী রূপ দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ঢল নেমেছে উত্তরের এই জনপদে।


কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাওয়া অনেকটা ভাগ্যের ব্যাপার। অনেক পর্যটকই কয়েক দিন অপেক্ষা করে মেঘের কারণে হতাশ হয়ে ফিরে যান। রাজশাহী থেকে আসা ব্যবসায়ী ও শিক্ষক কায়সার মাহমুদ ও রাসেল অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, গতকাল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেই আমরা কয়েকজন তেঁতুলিয়ায় এসেছি। ভোরে ডাকবাংলোর তীরে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করছিলাম। অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে একটু দেখা দিলেও পরে মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়, কিন্তু হাল ছাড়িনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যখন মেঘ কেটে গেল, তখন যে দৃশ্য দেখলাম, তা সারা জীবন মনে থাকবে।


অন্যদিকে ঢাকা থেকে আসা পর্যটক বাদল, নিহান ও তার বন্ধুরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জানান, বন্ধুরা মিলে শুধু কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার জন্যই এসেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের আসা সার্থক হয়েছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় আমরা কাঞ্চনজঙ্ঘার চূড়াটি স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি।

তেঁতুলিয়ার বিশেষত্ব হলো, এখানকার সমতলের সবুজ চা-বাগানের ভেতর দাঁড়িয়ে খালি চোখেই কাঞ্চনজঙ্ঘা উপভোগ করা যায়। বাইনোকুলার ছাড়াই কাঞ্চনজঙ্ঘার এই বিশালত্ব পর্যটকদের মুগ্ধ করে। কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকরা বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, পাথর সংগ্রহের দৃশ্য এবং সীমান্ত এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময় থেকে বায়ুমণ্ডল স্বচ্ছ হয়ে ওঠায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হতে শুরু করে। আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে নভেম্বর পর্যন্ত এটি নিয়মিত দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার মৌসুমে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আবাসিক হোটেল ও ডাকবাংলোগুলোতেও প্রস্তুতি রাখা হয়েছে।

সময়ের আলো/মহু

  বিষয়:   তেঁতুলিয়া  কাঞ্চনজঙ্ঘা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: