বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে টানা ৮ দিন আমদানি-রফতানি বাণিজ্য বন্ধ থাকার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে এই ছুটির মধ্যেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত এবং কাস্টমস ও বন্দরের অভ্যন্তরীণ দাফতরিক কার্যক্রমের নির্দিষ্ট কিছু অংশ সচল থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওপার থেকে আসা চিঠির ভিত্তিতে ছুটির এই হিসাব নির্ধারিত হয়েছে।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিক চক্রবর্তী জানান, শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে আগামী ১৭ অক্টোবর শনিবার থেকে ২১ অক্টোবর বুধবার পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরের দাফতরিক ও বাণিজ্যিক কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। তবে এই ছুটির মধ্যেও বিশেষ ব্যবস্থায় ইলিশ মাছের চালান গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল থেকে পুনরায় পুরোদমে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে, বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, ওপারের সংগঠনের দেওয়া চিঠি অনুযায়ী ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত ৫ দিন ভারতে বন্দর কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি-রফতানি বন্ধের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। সবমিলিয়ে দুই দেশের আমদানি-রফতানি টানা ৮ দিনের স্থবিরতা দেখা দেবে। তবে ছুটির মাঝেও আগামী ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টম হাউস ও বন্দরে কাজকর্ম স্বাভাবিক থাকবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়টি ওপারের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকলেও এপারে ১৮ ও ১৯ অক্টোবর পণ্য ওঠানামা, খালাস এবং পণ্যের শুল্কায়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক নিয়মে চলবে। এছাড়া বেনাপোল বন্দরে পণ্য খালাস শেষে ফাঁকা ভারতীয় ট্রাকগুলো নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবে।
যাত্রী চলাচল ও ইমিগ্রেশন প্রস্তুতি
বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান বলেন, ছুটির দিনগুলোতেও দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রী পারাপার সম্পূর্ণ স্বাভাবিক থাকবে। পূজার ছুটিতে যাত্রীদের চাপ সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে। তাই যাত্রীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে যাতায়াত করতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশনে পুলিশের জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মতে, একদিনের জন্য বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেই দুই দেশের বন্দরে পণ্যজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে টানা ৮ দিন বাণিজ্য বন্ধ থাকায় দুই দেশের বন্দর এলাকায় তীব্র যানজট ও পণ্যজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রতিদিন বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রফতানি হয়ে থাকে। এছাড়া চিকিৎসা, ব্যবসা ও ভ্রমণসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এই রুট দিয়ে যাতায়াত করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিদিন সরকার প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী খাত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।
সময়ের আলো/এনএন