‘ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে’ ৩০ ঘণ্টা পর বাইরে ভিসি

সময়ের আলো ডেস্ক

শিক্ষা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর স্থানীয়

2026-10-13T22:56:37+00:00
2026-10-13T22:59:54+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬,
২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
শিক্ষা
‘ক্যাম্পাসে না ফেরার শর্তে’ ৩০ ঘণ্টা পর বাইরে ভিসি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম  আপডেট: ১৩.১০.২০২৬ ১০:৫৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রাখার পর স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার নেতৃত্বে তাকে প্রশাসনিক ভবন থেকে নিরাপদে বাইরে নিয়ে আসা হয়।

উপাচার্যকে নিয়ে যাওয়ার সময় যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণবকে মাইকে ঘোষণা দিতে শোনা যায়, ‘আর কখনো চুয়েটের মাটিতে পা রাখবেন না— এমন শর্তেই আমাদের নবনিযুক্ত ভিসিকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ এ সময় জেলা প্রশাসকের পাশে উপাচার্যকে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

এর আগে, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন জেলা প্রশাসক। পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় উপাচার্যকে অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনে অবরুদ্ধ হন উপাচার্য। এরপর মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তালাবদ্ধ ভবনে চুয়েট চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক এবং কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে প্রবেশের অনুমতি দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, ‘সোমবার সকাল ১১টা থেকে আমরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিলাম। দুপুর ১২টায় যে ভবনে তালা দেওয়া হবে, তা আমরা তাকে আগেই জানিয়েছিলাম। তিনি স্বেচ্ছায় ভেতরে অবস্থান করেছেন, আমরা তাকে জোর করে আটকে রাখিনি। তাছাড়া, মানবিক দিক বিবেচনা করে তার পানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছিল।’

আরেক শিক্ষার্থী জানান, উপাচার্য পদত্যাগ করলে তাকে সম্মানের সঙ্গেই বিদায় নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম ভবনের একটি নির্দিষ্ট কক্ষে অবস্থান করছিলেন। প্রথমে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে না চাইলেও পরে কক্ষের দরজায় এসে সংক্ষেপে উপাচার্য বলেন, ‘আমরা এখানে ভীষণ অমানবিক পরিস্থিতিতে আছি। বর্তমান অবস্থার প্রেক্ষিতে আমরা প্রশাসনের সহায়তা চেয়েছি। প্রশাসন কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, সেটা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার।’

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করেই শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন। পাশাপাশি গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলনে শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি এবং স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে, যার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।

সময়ের আলো/আতা
  বিষয়:   চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়  চুয়েট  উপাচার্য  অবরুদ্ধ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: