আত্মপ্রকাশের দুই বছরের মাথায় কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করতে যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটির প্রথম কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কাউন্সিলকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ কয়েকটি পদে পরিবর্তন এবং দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার এনসিপির কয়েকটি সূত্র সময়ের আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানায়, দলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব পদ বহাল থাকলেও মুখপাত্র, উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক এবং মুখ্য সমন্বয়ক— এই পদগুলো বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সভায় চারটি পদ বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত হয়। পুনর্গঠনের পর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যসংখ্যা হবে ১৫১।
বর্তমানে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। এ ছাড়া দলের মুখপাত্রের দায়িত্বে রয়েছেন আসিফ মাহমুদ এবং মুখ্য সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারি।
একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হতে যাচ্ছেন নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারি ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। আর সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেতে পারেন সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ।
গত রোববার অনুষ্ঠিত সভায় কেন্দ্রীয় কমিটির পুনর্গঠন ও দায়িত্ব বণ্টনের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।
ওই সভায় এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, আব্দুল্লাহ আল আমিন ও নুসরাত তাবাসসুম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারি, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আরিফুল ইসলাম আদীব, সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদ ও সালেহউদ্দিন সিফাত সভায় অংশ নেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটির আহ্বায়ক হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এবং সদস্য সচিব হিসেবে আখতার হোসেনের নাম ঘোষণা করে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী স্থান পান।
আত্মপ্রকাশের দুই বছর পূর্তিতে প্রথম কাউন্সিলের মাধ্যমে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠিত হতে যাচ্ছে। কাউন্সিল ঘিরে নেতৃত্বের পরিবর্তন ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন দলটির সাংগঠনিক কাঠামোয় নতুন রূপ আনতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি