দারিদ্র্য বিমোচন ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে গ্রামীণ নারীর ক্ষমতায়ন জরুরি। পরিবার সামলানো থেকে কৃষিকাজ, ক্ষুদ্র শিল্প থেকে জাতীয় অর্থনীতি—সব ক্ষেত্রেই পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন গ্রামীণ নারীরা। অথচ তাদের শ্রমের যথাযথ স্বীকৃতি, মর্যাদা ও অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ও কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগের কারণে অনেক নারী নিজেদের দক্ষতা ও সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারছেন না। গ্রামীণ নারীর অবদানের স্বীকৃতি, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১৫ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবস।
গ্রামীণ নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও উন্নয়নের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০৭ সালের ১৮ ডিসেম্বর ১৫ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মূল লক্ষ্য হলো পরিবার, সমাজ ও অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীদের ভূমিকা ও অবদানকে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়া এবং তাদের জীবনমান উন্নয়নে সচেতনতা বাড়ানো।
দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ গ্রামীণ নারীরা। কৃষিকাজ, গবাদিপশু পালন, হাঁস-মুরগি পালন, মৎস্য চাষ, ক্ষুদ্র ও কুটিরশিল্পসহ নানা কাজে তাদের অংশগ্রহণ রয়েছে। পাশাপাশি পরিবারের দৈনন্দিন কাজ ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্বও তাদের বড় একটি অংশকে সামলাতে হয়। এত অবদান রাখার পরও তাদের অনেকের শ্রম অর্থনৈতিকভাবে মূল্যায়িত হয় না। ফলে পরিবার ও সমাজে প্রাপ্য মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হন তারা।
গ্রামীণ নারীরা শুধু পরিবারের আয়ে অবদান রাখেন না, তারা স্থানীয় অর্থনীতি সচল রাখা এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন। কৃষি উৎপাদন থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে তাদের অংশগ্রহণ গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে। যথাযথ প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং বাজারে প্রবেশের সুযোগ পেলে এই অবদান আরও বাড়ানো সম্ভব।
তাই গ্রামীণ নারীদের উন্নয়নে তাদের শ্রমের স্বীকৃতি, শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশ্ব গ্রামীণ নারী দিবসের তাৎপর্য কেবল এক দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়। গ্রামীণ নারীদের অবদানকে যথাযথ মূল্যায়ন, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং উন্নয়নের সমান অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই দিবসটির প্রকৃত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।
সময়ের আলো/এসএকে