অলহরী ব্রিজ-আমলীতলা সড়ক ভাঙনের ঝুঁকি নিয়েই শেষের পথে নির্মাণকাজ। ছবি : সময়ের আলোময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অলহরী ব্রিজ থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়নকাজ শেষের পথে। তবে মাওলানা জামাল উদ্দিনের বাড়িসংলগ্ন একটি অংশে নদীভাঙনের ঝুঁকি থাকায় সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমেই ওই অংশের প্রায় পাঁচ ফুট নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা ছাড়াই সড়ক নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির অধিকাংশ নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে চলছে কার্পেটিংয়ের কাজ। সবকিছু ঠিক থাকলে দুই-একদিনের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ হতে পারে। তবে নদীসংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সুরক্ষাব্যবস্থার দৃশ্যমান উদ্যোগ না থাকায় নতুন সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সড়কের প্রান্ত থেকে মাত্র এক থেকে দেড় ফুট দূরত্বে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিটার এলাকাজুড়ে মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে সড়কের একাংশ ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়ক নির্মাণের শুরুতে ওই অংশের পাশের জমির মালিক প্রকৌশলীর অনুরোধে সড়কের জন্য কয়েক ফুট জমি ছেড়ে দেন। সে সময় নদীভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে নির্মাণকাজ শেষের দিকে এলেও ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে।
বাবু নামে এক পথচারী বলেন, এল্লা রাস্তা তো ভাঙা গেলো। রাস্তা যে হরতাছে তারা কি দেখছে না গো? আগে রাস্তা আছিন না, এহন রাস্তা অইতাছে। কিন্তু অইলে লাভ কী? রাস্তা তো থাকতো না।
এবিএস কামাল আহমেদ বলেন, রাস্তার কাজ শুরুর সময় প্রকৌশলী মহোদয় অনুরোধ করে বলছিলেন, আপনারা কিছুটা জায়গা ছাড়েন, না হলে রাস্তার কাজ শুরু করা সম্ভব না। আমরা উনার অনুরোধে কয়েক ফুট জায়গা ছেড়ে দেই। উনি ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলে আশ্বাস দেন। তবে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। আশা করছি, দ্রুতই ব্যবস্থা নেবেন।
তাজুল ইসলাম বলেন, অনেক দিনের দাবির পর রাস্তাটির কাজ শুরু হয়েছে। তবে নদীর এই ভাঙনে আমরা বিচলিত। গাইড ওয়াল নির্মাণ করে ভাঙন ঠেকানোর ব্যবস্থা না নিলে সামান্য বৃষ্টিতেই নদীগর্ভে চলে যাবে রাস্তাটি। কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।
সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, এই এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমাতে সড়কটি পাকাকরণের খুব প্রয়োজন ছিল। জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী অনেক দিন পর নির্মাণকাজ শুরু হলেও কাজ শেষের আগেই ভাঙনের ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি থাকবে, দ্রুত একটি টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার।
এ বিষয়ে ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার মাথায় আছে। নদীভাঙনের জন্য নতুন নির্মিত এই রাস্তাটি ঝুঁকিতে রয়েছে। রাস্তাটি রক্ষার্থে নদীভাঙন রোধে পদক্ষেপ নিতে আমি ছবি সহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।
নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। অন্যদিকে, নদীভাঙনের ঝুঁকি মোকাবিলায় এখনো সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের বাইরে কোনো কার্যকর উদ্যোগের কথা জানা যায়নি। ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে সরকারি অর্থে নির্মিত সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সময়ের আলো/জোই