গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি কোন ধর্মের, কেউ জানতে চায়নি : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা

সারাদেশ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় কেউ জানতে চাননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ

2026-10-21T09:36:30+00:00
2026-10-21T10:19:03+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি কোন ধর্মের, কেউ জানতে চায়নি : প্রধানমন্ত্রী
চট্টগ্রাম সংবাদদাতা
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম  আপডেট: ২১.১০.২০২৬ ১০:১৯ এএম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : সংগৃহীত
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় কেউ জানতে চাননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন—কোনো ক্ষেত্রেই ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। দেশের সব নাগরিকের অধিকার সমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম যার যার, তবে সবার পরিচয় বাংলাদেশি।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় কেউ জানতে চাননি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন পর্যন্ত দেশের মানুষের লড়াইয়ে ধর্মীয় পরিচয় কখনো মুখ্য ছিল না। সবার অধিকার সমান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় এক।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জে এম সেন হলের দুর্গাপূজা মণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখো মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করেই দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সহযোদ্ধাদের ধর্মীয় পরিচয় কেউ বিবেচনা করেননি।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘বেশিদিন আগের কথা না, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি গুলি খাওয়া মানুষটি কি মুসলমান নাকি হিন্দু নাকি বৌদ্ধ নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহিদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে।’


প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দেশ আপনার, এই দেশ আমার, এই দেশ আমাদের সবার। আমরা মুসলমান হই, আমরা হিন্দু হই, আমরা বৌদ্ধ হই, খ্রিষ্টান হই যেই হই কেন, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকটি মানুষ এই বাংলাদেশি আমরা।’

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার পরিচয় সমান। ধর্মীয় পরিচয়ই মানুষের একমাত্র পরিচয় নয়; বরং সবাই এ দেশের নাগরিক এবং রাষ্ট্রের ওপর সবার সমান অধিকার রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশের আইন আমার জন্য যেভাবে প্রযোজ্য, এই দেশের আইন আপনার জন্যও প্রযোজ্য। এই দেশের উপরে আপনার যে অধিকার আছে, এই দেশের উপরে আমারও এই অধিকার আছে। এই রাষ্ট্র আপনাকে যা দেবে, এই রাষ্ট্র আমাকেও তাই দেবে।’

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন ও জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ছিল শান্তিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা—এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দল, মত, ধর্ম ও বর্ণনির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে মানুষ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, সেই ত্যাগের লক্ষ্য ছিল একটি প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গঠন।

তিনি বলেন, ‘আসুন না আমরা সবাই মিলে সেই বাংলাদেশটি, প্রত্যাশিত বাংলাদেশটি গড়ে তুলি, যেই বাংলাদেশের জন্য দল, মত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন সময়ে অকাতরে আমরা বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছি।’

কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মের মানুষের সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি হিন্দু হোন, আপনি মুসলমান হোন, আপনি বৌদ্ধ হোন, খ্রিষ্টান হোন, যাই হোন না কেন আপনার সহযোগিতা আমার দরকার, কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।’

জে এম সেন হলের অনুষ্ঠান শেষে নগরের রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ হোটেলে বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতারা ছাড়াও সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেতা এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   গণঅভ্যুত্থান  গুলিবিদ্ধ  ধর্ম  চায়নি  প্রধানমন্ত্রী  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: