ফিলিস্তিনপন্থিদের দমনে একজোট যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি

2026-10-21T23:21:53+00:00
2026-10-21T23:21:53+00:00
 
  বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬,
৫ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ফিলিস্তিনপন্থিদের দমনে একজোট যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২১ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি ছাত্র আন্দোলন দমনে প্রতিষ্ঠানগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে বলে নতুন এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে কেফিয়াহ (ফিলিস্তিনিদের ঐতিহ্যবাহী স্কার্ফ) পরা এবং তরমুজের ইমোজি ব্যবহারের কারণেও শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার ‘সাইলেন্সিং ডিসেন্ট’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে। এতে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যামূলক যুদ্ধের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সংশ্লিষ্টতার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে প্রতিষ্ঠানগুলো সক্রিয়ভাবে পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় করেছে। তথ্য অধিকার আইনের (এফওআই) আওতায় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ‘বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করেনি; বরং তারা এমন একটি নেটওয়ার্কের অধীনে কাজ করেছে, যা দমনমূলক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহ জুগিয়েছে।’

অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, কেমব্রিজ, অক্সফোর্ড, লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস ও বার্মিংহামের মতো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্লোগান দেওয়া, হাততালি দেওয়া ও কেফিয়াহ পরার কারণে শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদদের সাময়িক বহিষ্কার, ক্যাম্পাসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা এবং ভিসা বাতিলের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান সীমিত করতে আইনি ও আমলাতান্ত্রিক কৌশলও ব্যবহার করেছে।

তথ্য অধিকার আইনের আওতায় পাওয়া নথিতে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসব বিক্ষোভকে ‘ছোট বাচ্চাদের জেদাজেদি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পোশাককে ‘সন্ত্রাসীদের পোশাক’ বলেও উল্লেখ করেছেন তারা। একজন কর্মকর্তা তদন্ত শুরুর আগেই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

প্রকাশিত বার্তাগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করতে দেখা গেছে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে আদালতের নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বিক্ষোভ বন্ধ করা এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মসূচি ‘প্রিভেন্ট’-এর আওতায় পাঠানোর বিষয়ও ছিল।

নর্দাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় প্রকাশিত ইমেইলগুলোতে দেখা গেছে, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের কৌশল বিনিময়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিজেদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। অন্য প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীদের কাছে একজন প্রশাসক জানতে চেয়েছিলেন, তারাও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ভেতরে ‘আটকে রাখছেন’ (লকিং ইন) কি না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের ১৪২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ইউনিভার্সিটিজ ইউকে (ইউইউকে) এই যৌথ তৎপরতা আরও জোরদার করেছে।

যেসব ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থি অবস্থান কর্মসূচি চলছিল, সেসব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের নিয়ে সাপ্তাহিক সভার আয়োজন করত ইউইউকে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি কৌশল বিনিময় ও কর্মপন্থা সমন্বয়ের জন্য একটি নিয়মিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছিল।

সমন্বিত এ প্রচেষ্টা সরকারের উচ্চপর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, ইউইউকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। সংস্থাটি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ডাউনিং স্ট্রিটের সঙ্গে উপাচার্যদের বৈঠকের আয়োজন করার পাশাপাশি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে সরকারের প্রত্যাশার কথাও পৌঁছে দিয়েছে।

বিক্ষোভ জোরালো হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইউইউকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও উচ্চশিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফিস ফর স্টুডেন্টসের (ওএফএস) সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি, বিক্ষোভ ব্যবস্থাপনা এবং দেওয়ানি নিষেধাজ্ঞার মতো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।

ইউইউকের এক মুখপাত্র মিডল ইস্ট আইকে বলেন, যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা রক্ষায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তার ভাষ্য, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও একাডেমিক স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মূল ভিত্তি। আইন মেনে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার অধিকারসহ এসব স্বাধীনতা সুরক্ষিত রাখতে সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওই মুখপাত্র আরও বলেন, জটিল আইনি কাঠামোর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এমন কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়, যেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও হয়রানি প্রতিরোধের বিষয় দুটি পরস্পরবিরোধী অবস্থানে চলে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও বিক্ষোভ দমনে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করেছিলেন। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি চিফ সিকিউরিটি অফিসার্সের (এইউসিএসও) মাধ্যমে এ সমন্বয় করা হয়।

অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় বেসরকারি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে সম্ভাব্য হুমকিসংক্রান্ত ব্রিফিং নিয়েছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে হোরাস সিকিউরিটি কনসালট্যান্সি লিমিটেড, মিটি ইন্টেলিজেন্স হাব এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল সিচুয়েশনাল অ্যাওয়ারনেস (জিএসএ)। এসব গোয়েন্দা প্রতিবেদনে শিক্ষার্থীদের অহিংস কর্মসূচিকেও নিয়মিতভাবে ‘তীব্র হুমকি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হতো।

চলতি বছরের শুরুর দিকে আলজাজিরা জানিয়েছিল, গাজার পক্ষে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ‘গুপ্তচরবৃত্তি’ করতে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সাবেক ব্রিটিশ সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের হাজার হাজার পাউন্ড দিয়েছে। নিজেদের ‘শীর্ষস্থানীয় গোয়েন্দা’ সংস্থা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হোরাস সিকিউরিটি কনসালট্যান্সি লিমিটেডকে ২০২২ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ৪ লাখ ৪০ হাজার পাউন্ড দিয়েছে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।

ব্রিটেনের কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে কাজ করেছে সংস্থাটি। তাদের কাজের মধ্যে ছিল আন্দোলনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজগুলো খুঁটিয়ে দেখা, সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা এবং গোপনে সন্ত্রাসবাদবিরোধী হুমকি মূল্যায়ন করা।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এসব পদক্ষেপ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও প্রতিবাদের অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ
  বিষয়:   ফিলিস্তিনপন্থি  যুক্তরাজ্য  বিশ্ববিদ্যালয় 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: