বাঁশখালীর ব্যবসায়ী উদ্ধার, আটক ৬। ছবি : সংগৃহীতচট্টগ্রামের বাঁশখালীতে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) পরিচয়ে তুলে নেওয়ার চার দিন পর অপহৃত ব্যবসায়ী মোহাম্মদ এহসান প্রকাশ হাসানকে (৩৫) কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ফিল্মি কায়দায় ঘটে যাওয়া এই অপহরণ কাণ্ডের মূলহোতা প্রাক্তন সেনা ও র্যাব (এসআরবি) সদস্য সুমন মুন্সি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সুমনসহ আন্তঃজেলা অপহরণ চক্রের মোট ৬ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে অপরাধে ব্যবহৃত ভুয়া এসআরবি পোশাক ও ভুয়া আইডি কার্ড।
উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ী এহসান বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের তেলিয়াকাটা গ্রামের হাজী নুরুল কবিরের ছেলে। প্রায় ১২ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যবসা করার পর গত দুই বছর ধরে তিনি নিজ এলাকায় চারটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছিলেন।
গত ১৭ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুঁইছড়ি ইউনিয়নের প্রেমবাজারে এহসানের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘আব্দুল্লাহ এন্টারপ্রাইজ’-এ হানা দেয় দুর্বৃত্তরা। কালো পোশাক, মুখোস ও মাথায় টুপি পরিহিত চার ব্যক্তি এসআরবি পরিচয়ে তাকে হাতকড়া পরিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার হয়ে ওঠে।
অপহরণের পর অটোরিকশা ও সাদা মাইক্রোবাস বদলে বারবার স্থান পরিবর্তন করে চক্রটি। শেষ পর্যন্ত তাকে টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
এহসানের ভাই ব্রাজিল প্রবাসী মোহাম্মদ হোসাইন জানান, অপহরণের পর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে তার স্ত্রী ও দোকান ম্যানেজারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছিল। টাকা না দিলে এহসানকে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর বাঁশখালী থানায় মামলা করেন মোহাম্মদ হোসাইন।
মামলা দায়েরের পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের একাধিক টিম একযোগে অভিযানে নামে। মঙ্গলবার রাতে নিখুঁত তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডিবির দল টেকনাফের আলীখালী লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে (ক্যাম্প-২৫) অভিযান চালিয়ে এহসানকে উদ্ধার ও ৬ জনকে আটক করে।
আটক অন্য ব্যক্তিরা হলেন, মিজানুর রহমান (২৯), জয়নাল উদ্দিন (২৮), মো. আব্বাস উদ্দিন (৩১), মো. চলিম ওরফে সেলিম (৩০) এবং দেলোয়ার হোসেন (৪০)।
বুধবার সকালে অপহৃত ব্যবসায়ীকে বাঁশখালী থানায় নিয়ে আসা হলে উৎসুক জনতার ঢল নামে। সহকারী পুলিশ সুপার (আনোয়ার সার্কেল) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, আটক চক্রটিতে সাবেক র্যাব সদস্যের পাশাপাশি স্থানীয় ও রোহিঙ্গা অপরাধীরাও যুক্ত ছিল। মূলত মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ আদায় করাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার ও ছয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হবে।
সময়ের আলো/জোই