মোংলা দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর। ছবি : সময়ের আলো সুন্দরবন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর মোংলা এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করতে এক ঐতিহাসিক সফরে মোংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন সরাসরি মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণে আসছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে গোটা উপকূলীয় অঞ্চলের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, এই সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশি-বিদেশি বড় বিনিয়োগের আস্থা বাড়াবে এবং সার্বিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সুন্দরবনের আকরাম পয়েন্টে একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। পাইপলাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস সরাসরি মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হবে। গত আগস্টে নৌপরিবহণ ও বিদ্যুৎ মন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল স্থানটি পরিদর্শনের পর আজ প্রধানমন্ত্রী নিজেই তা পর্যবেক্ষণ করবেন। স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত হলেই দ্রুত শুরু হবে সম্ভাব্যতা যাচাই।
গত ১০ অক্টোবর মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সুবিধাদি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও চীনের এক্সিম ব্যাংকের মধ্যে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৩,৫৯২ কোটি ৮৯ লাখ টাকা) একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
প্রকল্পের মূল আকর্ষণ হলো, দুটি অত্যাধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণ। সুবিশাল কন্টেইনার ইয়ার্ড ও ডেলিভারি ইয়ার্ড তৈরি। আধুনিক যন্ত্রপাতিসংবলিত কার্গো হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড প্রতিষ্ঠা।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর চাপ কমিয়ে মোংলা বন্দরকে গতিশীল করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মোংলা নদীর ওপর সেতু, সড়ক যোগাযোগ এবং ১৯৯৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত খানজাহান আলী বিমানবন্দর দ্রুত চালুর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে।
জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল জানান, মোংলা ইপিজেড ও সামুদ্রিক এলাকা পরিদর্শনের পর প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নতুন কার্যকর প্রজেক্ট গ্রহণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা যায়, সে বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দেবেন।
খুলনা-৪ সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল জানান উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালুর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলবে।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী জানান, নতুন জেটি পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী যেন পশুর চ্যানেলে নিয়মিত ড্রেজিং নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা দেন, যাতে বড় জাহাজ অনায়াসে নোঙর করতে পারে।
সুন্দরবন পর্যটক ব্যবসায়ী ও লঞ্চ বোট মালিক সমিতির সভাপতি দিদারুল আলম জানান, সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষা করে আধুনিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে হোটেল, জলযান ও কুটির শিল্প খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—প্রকৃতি, বাণিজ্য ও শিল্পায়নকে সমন্বিত করে নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর এই দূরদর্শী সফর দেশের সামগ্রিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।
সময়ের আলো/জোই